SIR-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল বিজেপির! পাকিস্তানি নাগরিকের নাম ভোটার লিস্টে ফাঁস হতেই কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রথম থেকেই ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষার (SIR) পক্ষে জোরালো সওয়াল করে আসছে। এই আবহে, বিজেপির নেতা অর্জুন সিং নৈহাটি বিধানসভার ভোটার লিস্টে পাকিস্তানের করাচির এক নাগরিকের নাম ফাঁস করে দিয়ে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অর্জুন সিংয়ের এই দাবিকে সমর্থন করেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সনৎ দে।
করাচির নাগরিক ভারতের ভোটার!
অর্জুন সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, সালেয়া ইমরান ও তাঁর স্ত্রী সালোয়া খাতুন— দুজনেই জন্মসূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক। বর্তমানে তাঁরা নৈহাটির ঘোষপাড়া লেনে বাস করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কখন এবং কীভাবে তাঁরা ভারতীয় ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তুলে ফেললেন?
ভোটার লিস্ট অনুযায়ী, ভারতের নৈহাটি বিধানসভার ২৩ নং এ.টি ঘোষ লেনের ১১৫ নম্বর পার্টে সালোয়া পরিবারের নাম রয়েছে। স্বামীর নাম নথিবদ্ধ রয়েছে মহ: ইমরান হিসেবে।
অর্জুন সিংয়ের দাবি ও সালোয়া পরিবারের স্বীকারোক্তি
ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং জোরের সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সালোয়া পরিবার পাকিস্তানের নাগরিক এবং তাদের মেয়েও সেই দেশের নাগরিক, এমনকি তাদের পাকিস্তানের পাসপোর্টও রয়েছে।
যদিও মহম্মদ সালোয়া জানিয়েছেন, তাঁরা পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সেই দেশ তাদের পাসপোর্ট, ভিসা সবই বাতিল করে দিয়েছে। ইডির কাছে জেরার সময় সালোয়া স্বীকার করেছেন, ২৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং কর্মসূত্রে তাঁরা দুবাই থেকে ভারতে এসেছিলেন।
তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য
এই ঘটনায় বিতর্কের আবহ তৈরি হতেই স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সনৎ দে অর্জুন সিংয়ের কথা মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গোটা পরিবারই পাকিস্তানের নাগরিক। তবে তিনি এই দায় রাজ্য সরকারের ওপর চাপাতে নারাজ।
বিধায়ক সনৎ দে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “ভোটার কার্ড বা ভোটার তালিকায় নাম তোলার ব্যাপারটা পুরোটাই দেখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাই এই দায় রাজ্যের নয়, নির্বাচন কমিশনেরই।” তিনি আরও জানান, এই পরিবার ১৯৯১ সালে করাচি থেকে এখানে এসেছে।
রাজ্যে যখন এসআইআর নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে, তখন এই ঘটনা বিজেপির এসআইআর-এর দাবির সপক্ষে নতুন অক্সিজেন যোগাল।