আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক পরিবেশ ইতিবাচক! ব্রাজিল-পেরুর সঙ্গেও আলোচনা, কীভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ভারত?

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্বের একাধিক প্রধান অর্থনীতির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর হয়েছে এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে গয়াল জোর দিয়ে বলেন, ভারত এখন বিশ্ববাজারে বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য।

সফল চুক্তি ও চলমান আলোচনা

গয়াল জানান, ভারত ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) এবং ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA)-এর মতো উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে সফলভাবে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও, যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ভারত সক্রিয়ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), চিলি, পেরু, নিউজিল্যান্ড এবং ওমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে ব্রাজিলের সঙ্গে বিদ্যমান প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (PTA) সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা এগিয়েছে। গয়ালের কথায়, “আমরা বর্তমান চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে গভীর প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে চাই।”

আমেরিকা ও শুল্ক বিতর্ক

অন্যদিকে, ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA)-এর প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পর দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ এবং সংশোধিত এইচ-১বি ভিসা নীতি নিয়ে ভারতীয় শিল্পমহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই অতিরিক্ত শুল্ককে ভারত ‘অন্যায্য এবং অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেছিল।

বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা

বর্তমানে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯১ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫ সালে পরপর চতুর্থ বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হয়েছে।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি কিছুটা কমেছে (১১.৯৩ শতাংশ কমে ৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার), যদিও আমদানি বেড়েছে ১১.৭৮ শতাংশ। বহু দেশ ও সংস্থার সঙ্গে এই সক্রিয় আলোচনার মধ্য দিয়ে ভারত এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। পীযূষ গয়ালের কথায়, “আমাদের লক্ষ্য শুধু চুক্তি করা নয়, বরং এমন এক বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরি করা যা ভারতকে বিশ্বনেতৃত্বের উপযুক্ত করে তুলবে।”