১.৩ লাখ ছুঁই ছুঁই সোনার দাম! ভয় নয়, FOMO-তেই ক্রেতাদের ভিড়! ধনতেরাসের আগে টাটা গোষ্ঠীর জুয়েলারির দোকানে আকাল?

বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত সামরিক সংঘাত (পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেন), প্রধান অর্থনীতিগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির লাগাতার সোনা কেনার ক্ষুধা এবং উৎসবের মরসুমে ভারতের বিপুল চাহিদার কারণে সোনার বাজারে চলছে এক অভূতপূর্ব ‘বুল রান’। প্রায় অসম্ভব মনে হওয়া ১.৩ লক্ষ টাকা (প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনা) স্তরের কাছাকাছি চলে এসেছে দাম। আর এই দামবৃদ্ধির আবহেও ক্রেতাদের বিপুল আগ্রহে দেশের অন্যতম বৃহত্তম অলঙ্কার প্রস্তুতকারক, টাটা গোষ্ঠীর সহযোগী সংস্থা Tanishq আশঙ্কা করছে যে, ধনতেরাস এবং দীপাবলির আগে সোনার কয়েনের ভাঁড়ার ফুরিয়ে যেতে পারে!
কয়েনের আকাল: বিনিয়োগ এবং FOMO-এর প্রভাব
সাধারণত সোনার কয়েন কেনা হয় তার বিনিয়োগ মূল্যের কারণে। সম্প্রতি NDTV Profit-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Tanishq-এর সিইও অজয় চাওলা (Ajoy Chawla) এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা সোনার উপর একটি ‘রান’ দেখছি, বিশেষ করে কয়েন ও বারে। হয়তো বিনিয়োগ অথবা FOMO (Fear of Missing Out)-এর কারণেই এই ভিড়। মানুষজন মনে করছেন সোনার দাম আরও বাড়বে… দেশে বুলিয়নের (সোনার বারে) ঘাটতি রয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত পরিকল্পনা করেও রেখেছি, কিন্তু কয়েন ফুরিয়ে গেলে আমি অবাক হব না। ক্রেতাদের মধ্যেও সোনা দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাওয়ার উদ্বেগ রয়েছে।”
মূল্যবৃদ্ধি স্থায়ী, বুঝেই ফিরছেন ‘বেড়া-বসা’ ক্রেতারা
উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার পরেই সোনার চাহিদা বাড়লেও নবরাত্রির আগে পর্যন্ত অনেক ক্রেতাই দাম কমার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
চাওলা যোগ করেছেন, “উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই ভলিউম গ্রোথ আসতে শুরু করেছে। নবরাত্রি পর্যন্ত আমরা অনেক ক্রেতাকে দূরে থাকতে দেখেছি, যার কারণে ভলিউম গ্রোথ ছিল না… কিন্তু এখন যখন মানুষ বুঝতে পেরেছেন যে সোনার দাম এখানে স্থায়ী হতে চলেছে এবং তা বাড়তেই থাকবে, তখন সংশোধনের জন্য অপেক্ষারত ক্রেতারা বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। স্পষ্টতই ‘সেন্টমেন্ট ইজ ব্যাক’।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন যাঁরা দাম কমার আশায় বসে ছিলেন, তাঁরা এখন নিশ্চিত যে দ্রুত বা সহজে তা হতে চলেছে না। হলেও তা হবে সাময়িক। এই উপলব্ধিই তাঁদেরকে চড়া দামেই বাজারে নামতে উৎসাহিত করেছে। শুধু সোনা নয়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রুপোর (Silver) চাহিদা ও দামও ব্যাপক হারে বাড়ছে।
বিনিয়োগকারীর চাহিদা তুঙ্গে
অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই ভিন্ন ভিন্ন কারণ কাজ করলেও, শেষ ফল প্রায় একই— বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাড়তি চাহিদা। এই চাহিদা যেমন শারীরিক ধাতু (Physical Metal) হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তেমনই এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এর মতো ডিম্যাট উপকরণের মাধ্যমেও বাড়ছে। লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের কাছে ধনতেরাস সোনা কেনার এক অত্যন্ত শুভ দিন, যা এই সপ্তাহান্তে শুরু হতে চলেছে এবং চাহিদা থাকবে শিখরে।