রঞ্জি ট্রফি, সুদীপের ৯৮ ও সুমন্তের অপরাজিত ৮২; ইডেনে ৬১ রানে এগিয়ে বাংলা, স্বস্তিতে লক্ষ্মীরতন শুক্লা

ইডেন গার্ডেন্সে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে স্বস্তিতে রয়েছে বাংলা শিবির। প্রথম ইনিংসে উত্তরাখণ্ডকে ২১৩ রানে অলআউট করার পর, দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলা তাদের ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান তুলেছে। তারা ইতিমধ্যেই ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়েছে।

সুদীপের আক্ষেপ ও সৌরভের বিস্ময়:

বাংলা ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা লাগে। ওপেনার অভিমন্যু ঈশ্বরণ (০) শূন্য রানে ফিরে যান। এরপর দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। ২৬৪ বলে ৯৮ রানের টেস্ট মেজাজের ইনিংসে ১২টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।

তবে তাঁর ইনিংসের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, সেঞ্চুরি থেকে মাত্র দু’রান দূরে আত্মঘাতী শট খেলে আউট হয়ে যাওয়া। এদিন মাঠে উপস্থিত সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও সুদীপের এভাবে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হওয়া দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন, তবে সুদীপের লড়াকু ইনিংসের প্রশংসা করেন।

উজ্জ্বল তরুণ সুমন্ত গুপ্ত:

সুদীপ আউট হলেও, বাংলার ইনিংসকে টেনে নিয়ে চলেছেন তরুণ সুমন্ত গুপ্ত। অভিজ্ঞ অনুষ্টুপ মজুমদার (৩৫), সুদীপ ঘরামি (১৫), অভিষেক পোড়েলরা দ্রুত ফিরলেও, সুমন্ত সাহস, ধৈর্য ও ক্লাস মিলিয়ে এক অনবদ্য ইনিংস খেলছেন। দিনের শেষে তিনি ৮২ রানে অপরাজিত। তাঁর ব্যাটে এখনও বাংলার বড় লিডের আশা টিকে আছে।

উত্তরাখণ্ডের হয়ে নজর কেড়েছেন বোলার দেবেন্দ্র বোড়া, যিনি বাংলার পড়া ছয়টি উইকেটের মধ্যে একাই চারটি দখল করেছেন।

কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার বার্তা:

দিনের শেষে বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, “আরও দেড়শো রান তুলতে পারলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। সুদীপ অসাধারণ খেলেছে, সুমন্ত এখনও সেট।”

কোচের মতে, এই মুহূর্তে তিন পয়েন্ট বাংলার একপ্রকার পকেটে থাকলেও, ম্যাচ জিততে হলে বোলারদের ইডেনের উইকেটে স্পিনার ও পেসারদের যৌথ প্রচেষ্টায় সেরাটা দিতে হবে।