নৈহাটির ভোটার তালিকায় পাকিস্তানি নাগরিক, তুমুল শোরগোল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে, অর্জুন সিংয়ের কড়া আক্রমণে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

রাজ্যে ‘SIR’ (এসআইআর) নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই এবার উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে সামনে এল এক অবাক করা কাণ্ড। নৈহাটির ভোটার তালিকায় সালেহা খাতুন নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের নাম থাকার ঘটনায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সালেহা খাতুনের স্বামী মহম্মদ ইমরান নিজেই স্বীকার করেছেন, তাঁর স্ত্রী আদতে পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দা।
বিজেপির কড়া আক্রমণ:
বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, “উনি পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দা। অথচ বাংলায় এসেই তাঁরা হয়ে গিয়েছেন ভারতীয়।”
অর্জুন সিংয়ের দাবি,
“অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তড়িঘড়ি পুশব্যাক করা উচিত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও পাকিস্তানি নাগরিকরা’ এখানে বসবাস করছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “এসআইআর (SIR) হলে রাজ্যে আগুন জ্বলবে বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, বাংলার জনগণই সেই আগুন নিভিয়ে দেবে।”
অর্জুন সিং ইতিমধ্য্যেই নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে সালেহার পাকিস্তানি নাগরিক হওয়ার নথি ইমেল করে পাঠিয়েছেন।
তৃণমূল বিধায়কের পাল্টা জবাব:
নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে অবশ্য এই দায় নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে ঠেলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে সালেহা পাকিস্তানের বাসিন্দা হলেও, ভোটার কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের আওতায়।
“ভোটার কার্ড দেয় নির্বাচন কমিশন। যা অর্জুন সিংদের আওতায়। ওনারাই দেখুক, কী ব্যাপার… এটা সত্যি কথা যে সালেহা পাকিস্তানের বাসিন্দা।”
অবৈধ বসবাস ও মানবিকতার আবেদন:
সালেহার স্বামী মহম্মদ ইমরান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সালেহা ১৯৯১ সালে করাচি থেকে এখানে এসেছেন এবং ২০০৮ সালের আগে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠে। সেই থেকেই তিনি ভোট দিয়ে আসছেন।
যদিও সাম্প্রতিককালে প্রশাসনের উদ্যোগে সালেহার পাসপোর্ট বাতিল হয়েছে এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনে তাঁর ভিসা রিনিউ হয়নি। ফলে তিনি অবৈধভাবেই বাংলায় রয়েছেন। ইমরানের পরিবার অবশ্য ‘মানবিকতার খাতিরে’ তাঁর বৈধ পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
ভোটের আগে এই ঘটনা রাজ্যরাজনীতিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।