৩০০ বছরের ঐতিহ্য, মালদহের ভাগীরথী তীরে পূজিত হন ‘পাগলী কালী’, ঘটে হয় দেবীর আরাধনা

মালদহ জেলার ভাগীরথী নদী তীরবর্তী খাসকল গ্রামে প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজিত হয়ে আসছেন এক রহস্যময়ী দেবী। স্থানীয়দের কাছে যিনি ‘পাগলী কালী’ নামে পরিচিত, আবার কেউ কেউ তাঁকে ‘উদাসী কালী’ বলেও চেনেন। আসন্ন কালীপুজোর আগে এই প্রাচীন মন্দিরে এখন জোর কদমে চলছে সংস্কারের কাজ।
ঘট সমাধির পূজা:
এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল—এখানে কোনও প্রতিমা পূজা হয় না, বরং ঘট সমাধির পূজা হয় প্রথা মেনে। প্রতিবছর তিথি অনুযায়ী কার্তিক মাসেই দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের কথায়, প্রায় ৩০০ বছর আগে স্থানীয় দুই ব্যক্তি— কালু ঘোষ এবং অমর ঘোষ এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। সেই সময় থেকেই এই প্রথা চলে আসছে।
দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত সমাগম:
গ্রামবাসীরা জানান, এই মন্দিরকে ঘিরে তাঁদের আবেগ বহুদিনের। তাঁদের দাবি, শুধু মালদহ জেলা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে মা পাগলী কালীর পুজো উপলক্ষে। পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসে বিশাল মেলা।
বিশেষ কোনো জাঁকজমকপূর্ণ ভোগের আয়োজন না থাকলেও, গ্রামবাসীরা একত্রে মিলে ধুমধাম সহকারে দেবীর আরাধনা করেন। ভাগীরথীর তীরে এই প্রাচীন মন্দির এবং তার পুজো রাজ্যের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।