“৩০ মিনিটে ৯ মিটার বাড়ল জলস্তর!”-বাঁচার আকুতি নিয়ে বারান্দায় গোটা পরিবার, দেখুন ভিডিও

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বানের রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক দৃশ্য সামনে এসেছে। প্রকৃতির রোষে মুহূর্তের মধ্যে কীভাবে জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন নেট নাগরিকরা।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, আকাসি রঙের একটি দোতলা বাড়ি প্রবল স্রোতের মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দোতলার সমান উঁচু জলের ধাক্কায় আশপাশের সমস্ত ঘরবাড়ি যখন ভেসে গিয়েছে, তখন ওই বাড়ির বারান্দায় অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার। চোখের সামনে তীব্র স্রোত তছনছ করে দিচ্ছে একের পর এক কাঠামো। বাড়িটির কার্নিস ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি পিছনের বারান্দার অংশও তলিয়ে গেছে জলের নিচে। নিশ্চিত মৃত্যুকে সামনে দেখে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে প্রতি মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। দুই মিনিট কুড়ি সেকেন্ডের এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়লেও, শেষ পর্যন্ত ওই পরিবারের পরিণতি কী হয়েছে তা জানা যায়নি।
Terrifying footage shows a flash flood sweeping through the Nepal–Tibet border, trapping people on rooftops and balconies. At least 469 have been killed, with hundreds still missing. pic.twitter.com/xRgRWmwut7
— Weather Monitor (@WeatherMonitors) August 28, 2026
গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় এই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে পড়া এবং প্রবল বর্ষণের ফলেই এই আকস্মিক হড়পা বান পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ পালানোর সুযোগ পর্যন্ত পাননি। জলের তোড়ে ভেসে গেছে বহু সেতু, রাস্তাঘাট ও আস্ত জনপদ।
উদ্ধারকাজ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫৪০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আকস্মিক এই তাণ্ডবে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জলস্তর কিছুটা কমলেও এখনও বহু এলাকায় আতঙ্ক কাটেনি।