ধর্ম ও চাকরির ব্যর্থতা! প্রেমে বাধা মানতে না পেরে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে প্রেমিক-প্রেমিকার জোড়া আত্মহনন

ধর্ম আলাদা হওয়ায় প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার। তার ওপর চাকরির পরীক্ষায় ফল ভালো না হওয়ায় প্রথমে আত্মহননের পথ বেছে নেন প্রেমিক। প্রেমিকের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে না পেরে এরপর নিজেকে শেষ করলেন প্রেমিকাও। মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মৃত প্রেমিক-প্রেমিকার নাম শাহবাজ হোসেন (২৪) ও দ্রোণী দাস (২২)। দু’জনেই জিয়াগঞ্জ শ্রীপৎ সিংহ কলেজের পড়ুয়া ছিলেন। কলেজেই তাঁদের বন্ধুত্ব হয় এবং সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। গত তিন বছর ধরে সম্পর্ক ঠিকঠাক চললেও, সম্প্রতি দুই পরিবার তাঁদের প্রেমের কথা জানতে পারায় তুমুল অশান্তি শুরু হয়।
পরিবারের বাধা সত্ত্বেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য দু’জনেরই প্রয়োজন ছিল একটি ভালো চাকরি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহবাজ। গত রবিবার তিনি সাব-ইনস্পেক্টর (SI) পদে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এই হতাশা থেকেই শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন যুবক।
পরিবার সূত্রে খবর, শাহবাজ হোসেন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, প্রেমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রোণী দাস মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। জানা গেছে, তিনি শাহবাজের বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিবার থেকে তাঁকে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁকে ঘরে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের নজর এড়িয়ে দোতলায় উঠে দ্রোণীও গলায় ফাঁস দেন। সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন।
জোড়া আত্মহত্যার ঘটনায় দুই পরিবারেই এখন গভীর শোকের ছায়া। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দু’টি ক্ষেত্রেই নবগ্রাম থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।