SIR মানেই কি NRC? ভোটার তালিকা সংশোধনে আতঙ্ক! নাম বাদ গেলে কী করবেন? জেনে নিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নির্দেশ

বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ‘এসআইআর’ (SIR-Summary Revision of Electoral Rolls)। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ‘এসআইআর’-কে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC)-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন এবং মনে করছেন নথিপত্র জমা দিতে না পারলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে পারে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতর (West Bengal State election Commission) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় মূলত মৃত ভোটার, বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন এমন ভোটার এবং যেসব ভোটারের নাম দুই জায়গায় রয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

তবে এ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পারদ যত চড়ছে, ততই ভোটার তালিকা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দ্বন্দ বাড়ছে। বিজেপি দাবি করেছে, প্রায় এক কোটি ভুয়ো ভোটার বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এটা একটি বড় ষড়যন্ত্র।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি মাত্র নথির ভিত্তিতে প্রকৃত ভোটারের নাম নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিজের নাম সঠিকভাবে নথিভুক্ত রাখতে হলে নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় নথিগুলি প্রস্তুত রাখা ভালো:

১. আপনি যদি কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হন, তবে আপনার সেই পরিচয়পত্র। ২. যাঁরা ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে জন্মেছেন, তাঁদের সেই সংক্রান্ত যেকোনো সরকারি (কেন্দ্র অথবা রাজ্য) নথি প্রয়োজন। ৩. ১৯৮৭ সালের পরে যেসব ভোটাররা জন্মেছেন, তাঁদের জন্মের শংসাপত্র (Birth Certificate) দিতে হবে। ৪. বৈধ পাসপোর্ট থাকা খুবই দরকার। ৫. জন্মের সাল এবং তারিখের উল্লেখ রয়েছে এমন যেকোনো বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্র। ৬. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র। ৭. তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত হলে, সেক্ষেত্রে সেই সংক্রান্ত নথি (কাস্ট সার্টিফিকেট)। ৮. জাতীয় নাগরিকপঞ্জির শংসাপত্র (NRC) (যদি প্রযোজ্য হয়)। ৯. বনভূমি অধিকারের শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)। ১০. রাজ্য কর্তৃপক্ষের দ্বারা তৈরি করা পারিবারিক ‘রেজিস্টার’। ১১. কোনও জমি/বাড়ি থাকলে সেটির সরকার প্রদত্ত নথি (দলিল, পর্চা ইত্যাদি)।

কারোর যদি ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকে, সেক্ষেত্রে তাঁর এই সব নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই।

আধার কার্ড কি মান্যতা পাবে?

এসআইআর-এ আধার কার্ড মান্যতা পাবে কিনা, এই প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি চর্চিত। তবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিহারেই শুধুমাত্র আধার কার্ডকে দ্বাদশ নথি হিসাবে যুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কমিশনের কাছে কোনো নাগরিকের আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ করে না। আধার কার্ড শুধুমাত্র পরিচয়পত্রের প্রমাণ মাত্র।