“পুলিশের তদন্তে সন্দেহ”! দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডে এবার CBI তদন্তের দাবিতে অনড় নির্যাতিতার বাবা, তুললেন আরজি করের প্রসঙ্গ

দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Rape Incident) ফের এক নতুন মোড় এল। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবার সরাসরি সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তদন্ত এগোচ্ছে বললেও, অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, একমাত্র সিবিআই তদন্ত হলেই প্রকৃত দোষীরা ধরা পড়বে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।
নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে আমার এখনও সন্দেহ রয়েছে। সিবিআই তদন্ত হলে আরও ভালো এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। আমি অনুরোধ করছি, সিবিআই তদন্তের মাধ্যমেই দ্রুত দোষীরা শাস্তি পাক।”
এই প্রসঙ্গে তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, “আরজি করের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেননি। তাই এবার চাই নিরপেক্ষ তদন্ত। সিবিআই তদন্ত হলে ন্যায়বিচার হবে।”
উল্লেখ্য, দুর্গাপুরের এই ঘটনাটি প্রথমে গণধর্ষণ হিসেবে সামনে এলেও, পরে নির্যাতিতা পুলিশের কাছে গোপন জবানবন্দিতে জানান, ‘ধর্ষক একজনই’। যদিও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি নিজে সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, তবুও মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের ইঙ্গিত মেলায় তদন্তে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের এবং নির্যাতিতার সহপাঠীকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে। যে পথ ধরে নির্যাতিতা ও তাঁর সহপাঠী হাসপাতাল থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই রাস্তাও খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশ সেই রাতে ধৃতদের পরিধান করা পোশাকও উদ্ধার করেছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর নির্যাতিতার সেই সহপাঠীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সিপি জানিয়েছেন, নির্যাতিতার সহপাঠীর ভূমিকাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। তাঁর কাছে ফোন থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি ঘটনার কথা কাউকে জানাননি, কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে খবর দেননি—তা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি জানিয়েছেন, “নির্যাতিতার বাবাকে সবরকমভাবে সাহায্য করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে। সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তবে পরিবারের বক্তব্য, তদন্তে গতি এলেও পুলিশের উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা আসেনি। তাই ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন।