‘ক্রিকেট যা পারেনি, হকির ছেলেরা তা দেখাল!’ ভারত-পাক ম্যাচের আগে বরফ গলালেন তরুণ খেলোয়াড়রা, জোহর কাপে ভাইরাল সেই দৃশ্য

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের মঞ্চে ভারত ও পাকিস্তানের সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে হাত না মেলানো নিয়ে যে কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, হকির টার্ফে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। মালয়েশিয়ার জহর বারুতে অনুষ্ঠিত ‘সুলতান অব জহর কাপ’-এর ময়দানে ভারত ও পাকিস্তানের তরুণ হকি খেলোয়াড়রা ম্যাচের আগে ‘হাই ফাইভ’ এবং শেষে আন্তরিক ‘হ্যান্ডশেক’ করে বুঝিয়ে দিলেন—খেলাধুলো আজও সংযোগের শক্তিশালী ভাষা।

ক্রিকেট মাঠে যখন ‘অপারেশন সিঁদুরের’ পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছিল, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন হকির ক্ষেত্রেও হয়তো ‘নো হ্যান্ডশেক’ কূটনীতি দেখা যেতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার জহর বারুর ময়দানে সব জল্পনার অবসান ঘটাল ভারতের তরুণ ব্রিগেড।

বদলে গেল চিত্রনাট্য:

ম্যাচের আগে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দিকে এগিয়ে এসে ভারতের তরুণরা একে একে প্রত্যেককে ‘হাই ফাইভ’ দিলেন। যদিও তা আনুষ্ঠানিক হ্যান্ডশেক ছিল না, তবুও এই পদক্ষেপ সৌহার্দ্যের স্পষ্ট বার্তা দিল। জানা যায়, পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (PHF) আগে থেকেই খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছিল যে ভারত হয়তো হাত নাও মেলাতে পারে এবং সেক্ষেত্রে যেন তারা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখায়। কিন্তু ভারতীয় দল প্রথমে হাই ফাইভ বাড়িয়ে দিয়ে কূটনৈতিক বরফ গলিয়ে দেয়।

রুদ্ধশ্বাস ৩–৩ ড্রয়ের পর দেখা যায় আরও তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য— এবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পাকাপাকি হ্যান্ডশেক। ক্রিকেট যেখানে দেওয়াল তুলেছিল, হকির তরুণরা সেখানে সেতু গড়লেন।

টানটান ম্যাচে ৩-৩ ড্র:

সৌহার্দ্যের বার্তার পাশাপাশি মাঠের খেলাও ছিল আগাগোড়া টানটান। পাকিস্তান শুরুতে পেনাল্টি থেকে শাহীদের গোলে (৫ মিনিট) এবং সুফিয়ান খানের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রনাট্য পাল্টে দেয় ভারত। প্রথমে আরিজিৎ সিং হুন্দালের গোল, এরপর সৌরভ আনন্দ কুশওহার সমতা ফেরানো এবং ৫৩ মিনিটে মনমিৎ সিংয়ের দুরন্ত ফিল্ড গোলে পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়। তবে শেষ দিকে সুফিয়ান ফের গোল করে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেন, ফলাফল দাঁড়ায় ৩–৩।

ভারতের কিংবদন্তি গোলকিপার পি আর শ্রীজেশের মেন্টরশিপে এই ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই গ্রেট ব্রিটেন ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। এই ড্রয়ের পর দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা অটুট রইল—তবে তা কেবলই প্রতিদ্বন্দ্বিতার, কোনো তিক্ততার নয়।