‘বিজেপির টাকায় কুৎসা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ান!’ উত্তরবঙ্গে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বৃষ্টি ও ধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, “আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। বিজেপির মদতে হতাশা না ছড়িয়ে বিপর্যস্ত এলাকা মেরামতিতে এগিয়ে আসুন। মানুষকে নিজেদের থেকে সাহায্য করুন। প্রশাসন যথাসাধ্য করছে। কিন্তু বিজেপির টাকায় কুৎসা না ছড়িয়ে, উন্নয়নের কাজ করুন।”
ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে আর্থিক সাহায্য ও চাকরি
লক্ষ্মীপুজোর দিনই উত্তরবঙ্গে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত মিরিক পরিদর্শন সেরে তিনি যান মিরিক সুখিয়াপোখরিতে। সেখানে তিনি দুর্গতদের হাতে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতির জন্য সেখানকার বাসিন্দাদের ১ লক্ষ টাকা করে প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বজনহারা পরিবারের একজন সদস্যকে বিশেষ হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
সাহায্য বিতরণের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির মদতে কিছু ব্যবসায়ী কুৎসা ছড়াচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “বিজেপির মদতে একদিন ঘুরে ফোটোশপে ছবি করে সবাই পালিয়ে গিয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ব্যবসা করছেন ভালো করে করুন। কিন্তু ব্যবসার একটা দায়ও রয়ে যায়। মানুষকে হতাশ না করে সাহায্য করুন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান।”
ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কেউ কেউ ধূপগুড়ি ময়নাগুড়ি নিয়ে রাজনীতি করছে। অরুপ বিশ্বাস, গৌতম দেব, স্থানীয় বিধায়ক আগেই সেখানে ভিজিট করছেন… মানুষকে যারা হতাশ করছেন। তাদের বলি ব্যবসা করছেন করুন। এই সব আবার কী? কেন্দ্রের কাজ নেই। খালি রাজনীতি করছে। এক পয়সা দিয়ে সাহায্য করে না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “একবার রিলিফ দিয়ে আমি পালিয়ে যাবার নই। আমার কাজ দায়বদ্ধতা। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যাওয়া। আমি আমজনতার পাশে আছি। আমি মানুষের কাজের জন্য পাশে আছি।”
প্রবল বৃষ্টি, ধস এবং ভুটান থেকে ছাড়া জলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। পাহাড় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।