‘গরু পাচারের জন্য সপ্তাহে ২৫,০০০ টাকা দিই’, পুলিশকে টাকা দেওয়ার কথা ফাঁস হতেই যা ঘটলো…

উত্তর প্রদেশের গাজিপুর জেলায় এক গরু পাচারকারীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির জেরে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পাচারকারী নিজেই ভিডিওতে প্রকাশ করেছেন যে, প্রতি সপ্তাহে গরু পরিবহণের জন্য তিনি এক পুলিশ কনস্টেবলকে ২৫,০০০ টাকা দিতেন। এই বিস্ফোরক ভিডিওটি ভাইরাল হতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত শনিবার গভীর রাতে গাজিপুরের ফুঁফুয়াভ সেতুর কাছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তিনটি গরু বহনকারী একটি পিকআপ ট্রাক আটক করে। গাড়ির চালককে হাতেনাতে ধরে গ্রামবাসীরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এবং সেই কথোপকথনটি ক্যামেরাবন্দি করে নেয়, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে তরুণ পিকআপ চালক স্বীকার করেছেন যে, পিকআপটি ফুলি গ্রামের বাসিন্দা গোলু যাদবের। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি তখনই সামনে আসে, যখন সে জানায়, পুলিশ স্টেশনে নিযুক্ত কনস্টেবল নীরজ কুমার অনুরাগীকে প্রতি সপ্তাহে ২৫,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। অভিযুক্ত আরও স্বীকার করেছে যে, সে গত পাঁচ দিন ধরে এই পথেই গরু বহনকারী যানবাহন পারাপার করছিল। গ্রামবাসীদের তৎপরতার ফলেই পুলিশের যোগসাজশে চলা এই অবৈধ কার্যকলাপ প্রকাশ্যে আসে।

পাচারকারীকে আটক করার পর গ্রামবাসীরাই পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গ্রামবাসীরা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু এরপরেই ঘটে আরও এক বিস্ময়কর ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, পাচারকারী তাদের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছে!

পুলিশের হাত থেকে অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এলাকার বাসিন্দারা চরম ক্ষুব্ধ এবং তাদের দাবি, দ্রুত এই বিষয়টি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত করা হোক এবং অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পুলিশের গাফিলতি নাকি যোগসাজশ— এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।