‘৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে ৫ জন মিলে…’ দুর্গাপুর কাণ্ডে নির্যাতিতার বয়ানে প্রকাশ্যে এলো ভয়ংকর তথ্য

গত শুক্রবার রাতে দুর্গাপুরের (Durgapur) এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং রবিবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
এরই মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষের নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রী কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত লিখিত বয়ান জমা দিয়েছেন, যা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রী তাঁর তিন-চার লাইনের লিখিত বয়ানে গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন:
তিনি জানিয়েছেন, রাত ৮টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গোটা ঘটনাটি ঘটেছে।
বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে হাঁটছিলেন তিনি। সেই সময় হঠাৎই তিন জন যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে।
তরুণী বন্ধুদের ফোন করে খবর দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়।
পরে আরও দু’জন আসেন। সব মিলিয়ে পাঁচ জন মিলে তরুণীকে ধর্ষণ করেছে।
অভিযুক্তেরা নাকি তরুণীকে পরে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ফোন ফেরত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়।
এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের তীর গিয়েছে ওই সহপাঠী বন্ধুর দিকে। রবিবার পুলিশের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যে, গোটা ঘটনার সঙ্গে ওই সহপাঠীও জড়িত।
তবে তদন্তকারীদের মনেও ওই সহপাঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের একাংশের প্রশ্ন, বান্ধবী বিপদে পড়েছেন দেখেও তিনি যেভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তারপর তিনি পালিয়ে গিয়ে কলেজ থেকে অন্য বন্ধুদেরও ডেকে নিয়ে কেন যাননি? আপাতত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে রবিবার নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝীর কথা হয়েছে। তিনি সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।
নির্যাতিতার বাবা রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এই জায়গার উপর থেকে ভরসা উঠে গিয়েছে। মেয়েকে মেরেও ফেলতে পারে। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছি, যাতে মেয়েকে এখান থেকে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”