৬ বছর ধরে কেন জিজ্ঞাসাবাদ নয়? সারদা মামলায় রাজীব কুমার প্রসঙ্গে CBI-কে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের!

বাংলার সর্বাধিক আলোচিত এবং বিতর্কিত আর্থিক কেলেঙ্কারি, সারদা চিটফান্ড মামলা, এবার নিয়েছে এক নতুন মোড়। রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে (Rajeev Kumar) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে রাজ্যের বহু মানুষ প্রতারিত হন। এই মামলায় রাজীব কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। সিবিআই সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে যে, রাজীব কুমারের জামিন খারিজ করা হোক এবং তাঁকে তদন্তের প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হোক। সিবিআই-এর দাবি, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যা তাঁর গ্রেফতারের জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন উঠতেই তৈরি হয় চাঞ্চল্য। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে শুধু বিস্ময়ই প্রকাশ করেননি, বরং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন।

সিবিআই-এর আইনজীবীর কাছে প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই সরাসরি প্রশ্ন রাখেন, “কেন গত ছয় বছরে রাজীব কুমারকে একবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি?”

এই একটি প্রশ্নই সারদা মামলার তদন্ত পদ্ধতি নিয়ে গভীর সংশয় তুলে ধরেছে। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণ জানাতে গিয়ে বলেন, “এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ হতাশাজনক। এটি বুঝিয়ে দেয় যে সারদা মামলায় সিবিআই-এর তরফ থেকে যথেষ্ট আগ্রহ এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

তদন্তে ‘দায়িত্বহীনতার’ ইঙ্গিত?
২০১৭ সালে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এবং পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যান। সিবিআই-এর বক্তব্য ছিল যে রাজীব কুমারের জামিন অবৈধ। তবে, শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ স্পষ্টতই নির্দেশ করে যে, একটি সাধারণ তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোনো সন্দেহভাজনকে ঠিক সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে ছয় বছর ধরে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কোনো গঠনমূলক প্রশ্ন না তোলায়, পুরো বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার দিকেই আঙুল তুলেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণ সারদা মামলার তদন্তের গতিপথ কোনদিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।