বিশ্বের দীর্ঘতম নাম! এক-দুটি নয়, ২,৩১০টি মিডল নেম! বিয়ের সময় শুধু নাম উচ্চারণেই লাগল ২০ মিনিট, জেনেনিন

নিউজিল্যান্ডের লরেন্স ওয়াটকিন্স এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর সাধারণ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ গল্প—আর তা হলো বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম নাম। লরেন্স ওয়াটকিন্স মোট ২,৩১০টি মধ্যম নাম (মিডল নেম) যোগ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness World Records) ছয় পৃষ্ঠার স্থান দখল করেছেন।

এত লম্বা নামের কারণে ওয়াটকিন্সকে ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সবচেয়ে মজার ঘটনাটি ঘটে তাঁর বিয়ের সময়। তাঁর নামের দৈর্ঘ্য এতটাই বেশি ছিল যে, বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী আধিকারিকদের শুধু তাঁর পুরো নামটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগেছিল!

ওয়াটকিন্স জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম লেখানো। কিন্তু তিনি সবচেয়ে শক্তিশালী, লম্বা বা দ্রুততম ছিলেন না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, কেন বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নামের রেকর্ডটি তাঁর হবে না? আর এভাবেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ নামের প্রথা।

১৯৯০ সালে, ২৪ বছর বয়সী ওয়াটকিন্স অকল্যান্ড শহরের একটি লাইব্রেরিতে কাজ করতেন। তিনি সেখান থেকেই হাজার হাজার নাম সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শিশুদের নামের বই, মাওরি ভাষার অভিধান, সহকর্মীদের কাছ থেকে ইউরোপীয়, মাওরি, সামোয়ান, জাপানি এবং চীনা নাম—নানা ধরনের নাম যোগাড় করেন তিনি।

এই সংগৃহীত নামগুলিকে মধ্যম নাম হিসেবে নিবন্ধিত করতে ওয়াটকিন্সকে প্রায় ৪০০ ডলার খরচ করতে হয়েছিল। অকল্যান্ড রেজিস্ট্রার তাঁর আবেদন গ্রহণ করলেও, ওয়েলিংটনের রেজিস্ট্রার জেনারেল তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে জেদি ওয়াটকিন্স মামলাটি হাইকোর্টে নিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হন।

রেকর্ড যাতে কেউ ভাঙতে না পারে, তাই আইন বদল!
ওয়াটকিন্সের এই কৃতিত্ব এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এটিকে ভাঙার চেষ্টা না করতে পারে, তার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারকে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে হয়েছিল! এর অর্থ হলো, তাঁর এই বিশ্ব রেকর্ডটি এখন আইনত অটুট। ১৯৯৮ সালে, ওয়াটকিন্স অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন এবং বর্তমানে তিনি তাঁর এই ঐতিহাসিক লম্বা নামের জন্যই পরিচিত।