নজির ভাঙলেন ডি রাজা! টানা দু’বারের বেশি পদে থাকার বিধি থাকলেও তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক, কেন এত আপত্তি ছিল দলের?

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলিতে বিরল নজির গড়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সিপিআইয়ের (CPI) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন বর্ষীয়ান নেতা ডি রাজা। সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টিগুলিতে টানা দু’বারের বেশি সাধারণ সম্পাদক না থাকার বিধি থাকলেও, সেই রীতি ভেঙে ৭৬ বছর বয়সে চণ্ডীগড় পার্টি কংগ্রেস থেকে ফের দলের শীর্ষ পদে থাকার ছাড়পত্র পেলেন তিনি।

রাজা এই পদে পুনর্নিবাচিত হলেন এমন সময়, যখন তীব্র আপত্তি ছিল দলের অন্দরেই। এমনকি তাঁর রাজ্য তামিলনাড়ু থেকেও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল।

সিপিআইয়ের অভ্যন্তরে রাজার পুনর্নিবাচন নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যায়। দলের দক্ষিণ লবি এই প্রবীণ নেতাকে তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক করার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজার নেতৃত্বে দল সাংগঠনিকভাবে চাঙা হতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাঁর সময়ে পার্টিতে আরও ক্ষয় ধরেছে। তবে দক্ষিণ লবি উত্তর লবির কাছে পেরে ওঠেনি।

আশ্চর্যজনকভাবে, নতুন নেতৃত্ব হিসেবে মহিলা নেত্রী অমৃত কাউর (যিনি নির্বাচিত হলে ভারতের কোনও কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম মহিলা সাধারণ সম্পাদক হতেন) এবং নবীন মুখ বিনয় বিশ্বমের নাম উঠলেও, রাজা নিজেই বিরোধী ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার কথা বলে আরও তিন বছর শীর্ষ পদে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।

বিরোধিতার জবাবে রাজা দাবি করেন, ইন্ডিয়া জোট তৈরি এবং শরিকদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দল ছোট হলেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং সেটা তাঁর নেতৃত্বের গুণেই সম্ভব হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর পল্লব সেনগুপ্ত সহ কয়েকজন নেতা দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিতে উদ্যোগী হন। যদিও রাজার আবেগঘন ভাষণের পর তাঁরা নিরস্ত্র হন।

পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ডি রাজা। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী এখন একজন পরিপক্ক নেতার মতোই দল এবং ইন্ডিয়া জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।