আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়েছিল মায়ের আগমন! লোককথা, ‘মলিন পোশাকে কেঁদে বেড়াতেন দুর্গা’, দেড়শ বছরের পুজোয় অলৌকিক বিশ্বাস!

একসময় পুজো মানেই ছিল যাত্রাপালার জমজমাট আসর। সেই পুরোনো ঐতিহ্যকে আজও সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির করন্দা গ্রামের মুখোপাধ্যায় বাড়ি। চতুর্থীতে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে এই বাড়িতে। মা দুর্গার আগমন উপলক্ষ্যে এখানে সাতদিন ধরে চলে আনন্দ উৎসব।
এই মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো ইতিমধ্যেই দেড়শ বছর পার করেছে। একসময়ের পারিবারিক পুজো হলেও, এটি আজ কার্যত সর্বজনীন পুজোর রূপ নিয়েছে। যদিও মুখোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যেরা পুজোর ব্যয়ভার বহন করেন, তবে এই উৎসবে গ্রামের বাসিন্দারা সার্বিকভাবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
যাত্রাপালার ঐতিহ্য আজও অটুট
করন্দা গ্রামের মহাপ্রভু পাড়ার এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসব-পার্বণের ধারা বজায় রেখে এ বছরও নামী অপেরার যাত্রাপালার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও পুজোর বিভিন্ন দিনে থাকছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পরিবারের সদস্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগে এই গ্রাম বাংলায় যাত্রার খুব চল ছিল। ধান কাটা হয়ে গেলে উৎসব পার্বনে যাত্রা হত। কলকাতার নামি অপেরার যাত্রা দেখতে অনেক দূর থেকে উৎসাহীরা ভিড় করত। এখন রিলসের জমানায় যাত্রার চল আর নেই বললেই চলে। তবে পুরোনো রীতি মেনে আমরা যাত্রার চল রেখে দিয়েছি। গত বছরগুলির মতো এবারও যাত্রার দল আসছে। সেই যাত্রা দেখতে এখানকার বাসিন্দারা খুবই উৎসাহী।”
অলৌকিক বিশ্বাস ও গ্রামবাসীর সক্রিয়তা
এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে এক বিশেষ লোককথা। আটের দশকে প্রতিষ্ঠাতার পুত্র রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সময়ে পরিবারটি নিদারুণ আর্থিক সংকটে পড়ে। সেসময় কয়েক বছর প্রতিমা আনা সম্ভব হয়নি। লোককথা অনুসারে, সেই সময় নাকি মা দুর্গা মলিন পোশাকে গ্রামে কেঁদে কেঁদে বেড়াতেন!
এরপর পরিবারের একটু স্বচ্ছলতা ফিরতেই ফের মায়ের পুজো শুরু হয়। তারপর থেকেই গ্রামের অনেকেরই আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়। অনেকেরই বিশ্বাস, মায়ের কৃপাতেই সব হয়েছে। এই বিশ্বাস থেকেই পরিবারের পুজো হলেও গ্রামের সকলে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। নাচ, গান, যাত্রা থেকে শুরু করে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়ে গোটা এলাকা জমজমাট থাকে সাতদিন ধরে।