৫০ বছর আগে যারা শুরু করেছিলেন, তারাই আজ প্রধান অতিথি! ‘ইচ্ছে ডানা’ থিমে পরিবেশকে বার্তা দিল শান্তিপুরের এই ক্লাব

দেখতে দেখতে ৫০ বছর পার! সুবর্ণ জয়ন্তীর এই বিশেষ বছরে এক অনন্য নজির গড়ল নদীয়ার শান্তিপুর টাউনশিপের বিদ্যাপীঠ ক্লাব। পুজোর উদ্বোধন, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের বদলে, সেই সমস্ত প্রবীণ মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হলো, যাদের হাত ধরে অর্ধশতাব্দী আগে এই পুজোর যাত্রা শুরু হয়েছিল।
উদ্বোধনী মঞ্চ এদিন আবেগ, স্মৃতি ও সম্মানের এক বিরল মেলবন্ধনে ভরে ওঠে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই প্রবীণদের সংবর্ধনা জানিয়ে তাঁদের হাত ধরেই ৫০তম দুর্গাপূজা শুরু করেন।
কেন নেতা-মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ নয়?
ক্লাব কর্তৃপক্ষের মতে, ‘পুজোর আসর কোনও রাজনৈতিক দলাদলির ক্ষেত্র নয়।’ তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।
কর্তৃপক্ষ জানান, “একজন নেতাকে ডাকা হলে অন্য কেউ বঞ্চিত বোধ করেন। সেখান থেকে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়। তাই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের ‘প্রকৃত পথপ্রদর্শক’ তথা মায়েদের হাতেই এবারের পুজো উদ্বোধন করানো হয়েছে।”
‘ইচ্ছে ডানা’ থিমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা
শান্তিপুরের এই ক্লাবের এবারের থিম ‘ইচ্ছে ডানা’। এই থিমের মাধ্যমে সমাজে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিতে চায় ক্লাব। মূল বার্তাটি হলো— পাখিদের সংরক্ষণ, তাদের অবাধ বিচরণ এবং পরিবেশে তাদের অপরিহার্য ভূমিকার গুরুত্ব।
মণ্ডপসজ্জা: প্যান্ডেলের ভিতরে পাখিদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। মাটির হাঁড়ি, কলসি, গাছের ডাল থেকে মাছ ভরা জলাশয় পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে, যা পাখিদের প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস। পুরো প্যান্ডেলজুড়ে যেন এক পরিবেশবান্ধব আবহ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিমা নির্মাণেও থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে।
অনুদান দিয়ে মানবিক কর্মসূচি
৫০ বছরের ইতিহাসের এই সোনালী অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যাপীঠ ক্লাব নানা সামাজিক উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পাওয়া ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে শুধু পুজোর খরচ নয়, একাধিক মানবিক কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ, মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বই-খাতা বিতরণ।
উদ্বোধনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য মণ্ডপ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং থিমপুজোর এই অভিনব পরিবেশ দেখতে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রবীণ মায়েদের সংবর্ধনা দিয়ে ক্লাব যে সম্মান প্রদর্শন করেছে, তা সত্যিই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।