৪২ হাজার কোটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, কংগ্রেসের বিদ্যুৎনীতি নিয়ে কড়া আক্রমণ মোদীর, কী ছিল কৃষকের মজার কথা

রাজস্থানের এক কৃষকের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে বৃহস্পতিবার কার্যত হাসির রোল পড়ল প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভায়। ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান উর্জা সুরক্ষা এভম উন্নয়ন মহাভিযান’ (PM-KUSUM) প্রকল্পের উপভোক্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ওই কৃষক কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বহুল আলোচিত “আলু থেকে সোনা” মন্তব্যটিকে ইঙ্গিত করে মজার ছলে এই কথা বলেন।
কৃষক বলেন, “মানুষ বলেছিল আলু থেকে সোনা হবে। আলু থেকে সোনা হয়নি, কিন্তু আমাদের জমি থেকে আপনারা সোনা অবশ্যই দিয়ে দিয়েছেন।” কৃষকের এই মন্তব্যে সভাস্থলে হাসির রোল পড়ে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও হেসে ফেলেন।
প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী ২০১৭ সালের একটি ভাষণে “আলু থেকে সোনা বানানোর যন্ত্র” নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
সবুজ শক্তির পথে কৃষকের জয়
PM-KUSUM প্রকল্পে কৃষকদের সাফল্য দেখে তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সূর্যের আলো দিয়ে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন।” মোদী দাবি করেন, এই প্রকল্পের ফলে কৃষকরা আর শুধু খাদ্য উৎপাদক নন, বরং শক্তি উৎপাদনেও ভূমিকা রাখছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে কৃষকরা তাদের আয় বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন।
৪২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কংগ্রেসের বিদ্যুৎনীতি নিয়ে কড়া আক্রমণ
একই দিনে বাঁসওয়ারা থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই জনসভা থেকেই তিনি কংগ্রেসের বিদ্যুৎনীতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান।
মোদীর অভিযোগ:
বিদ্যুৎহীন পরিবার: ২০১৪ সালের আগে দেশে আড়াই কোটি পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি পর্যন্ত বসানো হয়নি।
কংগ্রেসের সীমাবদ্ধতা: কংগ্রেস বিদ্যুতের গুরুত্ব বোঝেনি। তাদের আমলে গ্রামে দিনে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, যে কারণে নতুন শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
বিজেপি সরকারের সাফল্য: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে এবং গ্রামীণ জীবনে বদল এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “একবিংশ শতকে যে কোনও দেশ দ্রুত উন্নতি করতে চাইলে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানোই হবে প্রথম শর্ত।”