কেন ষষ্ঠীর দিন বাঙালি নারীরা বিশেষভাবে পালন করেন এই ব্রত? জানুন দেবী ষষ্ঠীর আসল মাহাত্ম্য

শারদ দুর্গাপূজার প্রাক্কালে মহাষষ্ঠী তিথির গুরুত্ব বাঙালি সংস্কৃতিতে অপরিসীম। অনেক বনেদি বাড়িতে কৃষ্ণা নবমীতে মায়ের বোধন হলেও, বেশিরভাগ বারোয়ারি পুজোর শুভ সূচনা হয় এই ষষ্ঠীর দিনেই। আর এই তিথিতেই বাঙালি সধবা মহিলারা পালন করেন বিশেষ ষষ্ঠীব্রত।
ষষ্ঠীর দিনটিকে বাঙালির কাছে পুজোর শুভ সূচনা হিসেবে গণ্য করা হলেও, এই ব্রত শুধু দুর্গাপূজার অংশ নয়। দেবী ষষ্ঠীকে হিন্দুধর্মে সন্তানদায়িনী, রক্ষা কর্তা এবং স্নেহময়ী মাতৃশক্তি হিসেবে কল্পনা করা হয়। সন্তানের জন্ম, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য বাংলার ঘরে ঘরে সারাবছর নানা ধরনের ষষ্ঠীব্রত পালিত হয়— যেমন চাপড়া ষষ্ঠী, জামাইষষ্ঠী, শীতলষষ্ঠী ইত্যাদি। কিন্তু মহাষষ্ঠীর দিনে এর মাহাত্ম্য আলাদা।
কেন পালন করা হয় দেবী ষষ্ঠীর ব্রত?
দেবী ষষ্ঠী বা ষষ্ঠী ঠাকুরাণীকে শিশুর আরোগ্য ও মঙ্গলকামনায় পূজা করা হয়। এই ব্রত পালনের প্রধান মাহাত্ম্যগুলি হলো:
সন্তানকে রক্ষা ও মঙ্গলকামনা: লোকবিশ্বাস অনুসারে, দেবী ষষ্ঠী শিশুদের যাবতীয় অশুভ প্রভাব, দোষ-দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেন এবং তাদের দীর্ঘ জীবন দান করেন।
সন্তানপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা: যে সব নারীর সন্তান নেই, তাঁরা সন্তানলাভের আশায় এই ব্রত পালন করে থাকেন।
পারিবারিক শান্তি: বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত করলে পরিবারে অশান্তি দূর হয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।
বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতিতে ষষ্ঠী পূজা আসলে মায়ের মমতা ও সন্তানের প্রতি গভীর টানের এক অকৃত্রিম প্রতীক।
ষষ্ঠীর ব্রত পালনে যে নিয়মগুলি মাথায় রাখা আবশ্যক
ব্রত পালনের সময় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রাখা জরুরি। এখানে কিছু মূল নিয়ম তুলে ধরা হলো:
১. পবিত্রতা ও সংযম: ব্রতকারিণীকে ভোরে স্নান করে পরিষ্কার শাড়ি পরিধান করা উচিত। অনেকেই এই দিনে উপোস বা ফলাহার করে সংযম পালন করেন।
২. দেবী বরণ: দেবী ষষ্ঠীকে কলা গাছ, আম্রপল্লব, ধূপ-প্রদীপ, ফুল, ফল ও বিভিন্ন মিষ্টি নিবেদন করা হয়। সাধারণত খই, মুড়ি, কলা, চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি পিঠে নৈবেদ্য হিসেবে অর্পণ করা হয়।
৩. ব্রতকথা শ্রবণ: ষষ্ঠী দেবীর মাহাত্ম্য ও আশীর্বাদের কাহিনি বর্ণিত ব্রতকথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা এই আচারের অন্যতম অংশ।
৪. শিশুর উপস্থিতি: পুজোর সময় সন্তানকে কোলে বা কাছে বসিয়ে দেবীর কাছে আরোগ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা করা বিশেষভাবে শুভ বলে মনে করা হয়।
৫. প্রসাদ বিতরণ: পুজো শেষে নৈবেদ্য বা প্রসাদ পরিবারের সদস্য ও পাড়ার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা উচিত।
৬. নীতি ও নিষ্ঠা: ব্রত পালনের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে বিশ্বাস ও আন্তরিকতায়। এই দিনে ঝগড়া, মিথ্যা বলা বা কারও ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।