জুয়ার ঠেকে পুলিশের হানা, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে বেধড়ক মার খেল পুলিশ

মুর্শিদাবাদের ভৈরব নদের মুক্তারপুর ঘাটে জুয়ার ঠেকে পুলিশের অভিযানের পর ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দেন এক জুয়াড়ি, আর উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দেন এক পুলিশ কনস্টেবল। বুধবার দুপুরের এই ঘটনায় একদিকে যেমন এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন, তেমনই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার মুক্তারপুর ঘাটে। সেখানে রমরমিয়ে চলছিল জুয়ার আসর। পুলিশ হানা দিতেই জুয়াড়িরা পালানোর চেষ্টা করে। এই সময় ৩৬ বছর বয়সী সামিউল ইসলাম নামে এক যুবক ভৈরব নদে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ মেলেনি। সামিউল সাঁতরে কোথাও উঠেছেন, নাকি তলিয়ে গিয়েছেন, তা বুধবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।

সামিউলের নিখোঁজ হওয়ার খবর তার আত্মীয় ও বন্ধুদের কাছে পৌঁছালে তারা নৌকো করে মুক্তারপুর ঘাটে চলে আসেন। সামিউলের নিখোঁজ হওয়ার জন্য পুলিশকে দায়ী করে তারা জিতপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। উন্মত্ত জনতা লাঠি দিয়ে পুলিশকর্মীদের বেধড়ক মারধর করে। মারধরের এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশকর্মীদের একটি ক্লাবে টেনে নিয়ে গিয়েও মারধর করা হয়। জানা গেছে, এ সময় প্রাণে বাঁচতে পুলিশকর্মীরা কাকুতি-মিনতি করেন।

শুধু তাই নয়, এক কনস্টেবলকে টেনে নৌকো করে নদের ওপারে নিয়ে যেতে চায় জনতা। কিন্তু জনতার হাত থেকে বাঁচতে ওই কনস্টেবল নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে নিজের প্রাণ বাঁচান।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসপ্রীত সিং বলেন, “মুক্তারপুর ঘাটে জুয়ার আসর থেকে তাস, বোর্ড মানি হিসেবে ৪৭০০ টাকা এবং একটি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে মারধরের ঘটনাটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

সামিউলের বাড়ি নওদার দুর্লভপুরে। জানা গেছে, পুলিশ যখন জুয়ার ঠেকে হানা দেয়, তখন সামিউলের সঙ্গে আরও আট-নয়জন জুয়া খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। সামিউলকে খুঁজে বের করতে নওদা ও ডোমকল থানার পুলিশের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা টিমও ভৈরব নদে তল্লাশি চালাচ্ছে।