দুর্গাপুজোর ব্রত হবে ফলদায়ী! উপোস পালনে কোন ৬টি নিয়ম মানতেই হবে? বললেন চাণক্য

দুর্গাপূজা কেবল আনন্দ বা সাজগোজের উৎসব নয়, এটি বাংলার সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক পার্বণও বটে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বহু ভক্ত উপোস বা ব্রত পালন করেন। তবে ব্রত পালনের মূল উদ্দেশ্য শুধু আহার বর্জন নয়, বরং আত্মসংযম, শুচিতা এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করা।
ব্রতের সময়ে কোন কোন নিয়ম মেনে চললে তা অধিক ফলদায়ী হয়, সে বিষয়ে ভারতের সেরা কূটনীতিক ও অর্থবীদ চাণক্য তাঁর নীতিশাস্ত্রে বিশেষ উপদেশ দিয়ে গিয়েছেন।
চাণক্য-মতে ব্রত পালনের ৬টি প্রধান নিয়ম
চাণক্য বলেছেন, কেবল উপোস করলেই দেবীর আশীর্বাদ মেলে না। মানসিক ও চারিত্রিক সংযমও জরুরি।
১. শুচিতা বজায় রাখা (শরীর ও মন): ব্রত শুরু করার আগে শরীর এবং মন উভয়কেই শুচি করতে হয়। ভোরে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা আবশ্যক। চাণক্যের মতে, “শুচিরূপে ধর্মফল বৃদ্ধি পায়।” এক কথায় বললে, শুচিতা ছাড়া ব্রত অসম্পূর্ণ।
২. সত্য ও আচরণে সংযম: ব্রতের সময়ে শুধু খাওয়াদাওয়ার সংযম নয়, কথাবার্তা এবং আচরণেও সংযম জরুরি। মিথ্যা বলা, অন্যকে কষ্ট দেওয়া বা অশোভন আচরণ করলে ব্রতের আধ্যাত্মিক ফল নষ্ট হয়। মানুষের প্রতি দুর্ব্যবহার করে কোনও ব্রত পালনে ফল পাওয়া যায় না।
৩. শরীরের ক্ষমতা অনুসারে উপোস: ব্রত যেন শরীরের সহনশীলতার বাইরে না যায়। কারও কারও জন্য সারাদিন নির্জলা উপোস, আবার কেউ ফলাহার বা নিরামিষ আহার করতে পারেন। চাণক্যের উপদেশ, “অতিরেক সর্বত্র অনর্থকারণ”— অর্থাৎ অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি কিছুই শুভ নয়। তাই শরীর ও স্বাস্থ্যের ক্ষমতা বুঝে উপোস করুন।
৪. পুজোর প্রতি মনোনিবেশ: ব্রতের উদ্দেশ্য শুধু আহার বর্জন নয়, দেবীর পূজা-অর্চনায় ভক্তিসহকারে সময় দেওয়া। মন্ত্রপাঠ, চণ্ডীপাঠ বা দেবীর স্তোত্রপাঠে মনকে সম্পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করা উচিত।
৫. দান এবং সেবার গুরুত্ব: চাণক্য বলেছেন, “অন্নদান সর্বশ্রেষ্ঠ”। তাই ব্রতের দিনে দরিদ্র বা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য, বস্ত্র বা সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করলে দেবী তুষ্ট হন। জীব সেবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনও ব্রতই নয়।
৬. ক্রোধ ও ঈর্ষা থেকে বিরত থাকা: ব্রতের সময়ে কারও প্রতি বিদ্বেষ, হিংসা বা ক্রোধ রাখা উচিত নয়। চাণক্যের নীতি অনুযায়ী, রাগ মানুষের জ্ঞানকে গ্রাস করে এবং আধ্যাত্মিক সাধনা ব্যর্থ করে দেয়।
ব্রত ভঙ্গের সতর্কতা: ব্রত নেওয়ার আগে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ না করার শপথ নেওয়া প্রয়োজন। ব্রতের নিয়ম ভেঙে অশুচি খাবার খাওয়া বা অশোভন আচরণ করা ব্রতকে ব্যর্থ করে দেয়।