‘স্বামী মারা যাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন?’ ট্রোলিংয়ের মুখে জুবিন-পত্নী, পাশে দাঁড়ালেন বহু নেটিজেন!

বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গর্গের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়লেও গরিমা ভক্তদের উদ্দেশে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়েও তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এই আবেদন নেটিজেনদের একাংশের কাছে ভালো লাগেনি, ফলে শুরু হয়েছে কটূক্তি ও ট্রোলিংয়ের ঝড়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে জুবিন গর্গের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সঙ্গে থাকা ম্যানেজার ও পরিচিতদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠতে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে ২১ সেপ্টেম্বর জুবিনের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও বার্তা দেন গরিমা। তিনি বলেন, “জুবিন বাড়ি ফিরছে। ওঁ বেঁচে থাকাকালীন আপনারা যেমন ভালোবাসা দিয়েছেন, সেই ভালোবাসা যেন শেষ যাত্রাতেও থাকে।”
সিদ্ধার্থ শর্মার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “সিদ্ধার্থ শর্মা তাঁদের পরিবারেরই একজন। যখনই কেউ সিদ্ধার্থর বিরুদ্ধে কিছু বলেছে, জুবিন নিজেই তাঁকে সমর্থন করেছে। আমি সবার কাছে অনুরোধ করছি, এখন কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। আমি সব প্রিয় মানুষদের কাছে চাই, আর সিদ্ধার্থকে ছাড়া আমি কিছুই করতে পারব না।”
গরিমার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই অনেকের ক্ষোভ বেড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ মন্তব্য করেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পরও কেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত? এটা অদ্ভুত লাগছে।” আবার কেউ কেউ তাঁকে স্বামীর নিরাপত্তার ব্যাপারে অসচেতন থাকার জন্য দায়ী করেন। অনেকে মনে করেন, এই ভিডিওটি তিনি চাপে পড়ে দিয়েছেন।
তবে এই কঠিন সময়ে গরিমা একা নন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু মানুষ। অসমের প্রাক্তন সিভিল সার্ভিস অফিসার পুনম গোগোই ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “গারিমা সাইকিয়া গর্গ শুধু জুবিনের স্ত্রী নন, তিনি তাঁর ভালোবাসা, তাঁর শক্তি। এই মুহূর্তে তাঁকে বিচার নয়, সমর্থন দেওয়া উচিত।” আরেক নেটিজেন লেখেন, “জুবিন দা যেমন গরিমার পাশে দাঁড়াতেন, এখন আমাদের দায়িত্ব গারিমার পাশে দাঁড়ানো।”
উল্লেখ্য, অসম সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে এই মৃত্যু নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও গরিমাকে ট্রোল করা অনেকের কাছেই অমানবিক বলে মনে হয়েছে।