বিহারের ভুল শুধরে নিচ্ছে কমিশন? ‘সার’ শুরুর আগে কেন রাজনৈতিক দলগুলির মতামত জরুরি, জানুন আসল কারণ!

সারাদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা ‘সার’ (Special Intensive Revision of Electoral Roll) কবে শুরু হবে, সেই তারিখ এখনও স্থির করেনি নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। তবে এর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) দিল্লিতে ডেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সার’ শুরু করার আগে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা করে স্থির করতে হবে কীভাবে সংশোধনী প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। দলগুলোর কোনও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব থাকলে, তা প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে বিহারের ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুল শুধরে নেওয়া হিসেবে দেখছেন অনেকে। চলতি বছর ৪ জুন বিহারে ‘সার’ শুরু হলেও, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কমিশন আগাম কোনও বৈঠক করেনি। ফলে দলগুলির পক্ষে সংশোধনী প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব হয়নি। কমিশনের এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গুচ্ছ মামলা হয়।
শীর্ষ আদালত তখন আধার কার্ডকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বৈধ প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করতে কমিশনকে নির্দেশ দেয়। তবে এই নির্দেশ সত্ত্বেও কমিশন হলফনামা দিয়ে জানায়, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কমিশনই শেষ কথা। জবাবে সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা জানিয়েছে, কমিশন আইন ও সংবিধানের পরিধির মধ্যে কাজ করছে কি না, তা পর্যালোচনা করার অধিকার আদালতের আছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট ‘সার’ সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত রায় দেবে ৬ অক্টোবর। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রায় কেবল বিহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা দেশের কথা বিবেচনায় রেখে রায় প্রদান করা হবে।
মনে করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর মনোভাবের পরই কমিশন নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরীতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এই পাঁচ রাজ্যের সঙ্গেই বাকি রাজ্যগুলির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী সেরে ফেলা হবে কি না, তা নিয়ে কমিশন এখনও কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করেনি।