ইউসিসি-র পথে আরও এক পা! আসাম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আসাম মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দুই সপ্তাহ পর, অবশেষে রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা হলো বহুল আলোচিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আসাম ২০২৬ বিল’ (Assam Uniform Civil Code Bill, 2026)। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা বিলটি উত্থাপন করেন। বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিলের পাঁচটি মূল স্তম্ভ:
সরকার এই বিলের মাধ্যমে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে সংস্কার আনার প্রস্তাব দিয়েছে:
১. বহুবিবাহের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা: রাজ্যে একাধিক বিয়ের প্রথাকে পুরোপুরি অবৈধ ঘোষণা করা।
২. ন্যূনতম বিয়ের বয়স: বিবাহযোগ্য বয়স নির্ধারণ করা (পুরুষ ২১ ও নারী ১৮)।
৩. বাধ্যতামূলক নিবন্ধন: বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের প্রতিটি ঘটনা সরকারি নথিতে নথিভুক্ত করা।
৪. সমান সম্পত্তির অধিকার: পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
৫. লিভ-ইন সম্পর্কের নিবন্ধন: বিবাহবহির্ভূতভাবে বসবাসকারী যুগলদের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, যাতে অংশীদার ও সন্তানদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও আইনি সুরক্ষা
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই বিলের উদ্দেশ্য হলো বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনগুলোকে সরল ও আধুনিক করা। তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, এই আইনে প্রচলিত ধর্মীয় ও প্রথাগত রীতি পালনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে এই বিলের পরিধি থেকে রাজ্যের তফসিলি উপজাতিদের (ST) বাইরে রাখা হয়েছে।

বিরোধীদের আপত্তি
বিলটি পেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস, রায়জোর দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, অংশীজনদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা না করেই বিলটি তড়িঘড়ি বিধানসভায় আনা হয়েছে। আগামী ২৭শে মে বিধানসভায় বিলটি নিয়ে আলোচনা ও পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদের আদর্শ মেনে দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োগের লক্ষ্যে উত্তরাগণ্ড ও গুজরাটের পর আসাম তৃতীয় রাজ্য হিসেবে এই পথে হাঁটছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আসাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও বিধানসভায় এই বিলটি কতটা সহজে পাস হয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে আসামে এর রূপায়ণ কীভাবে বাস্তবায়িত হয়।