দিনমজুরির দিন শেষ! আদিবাসী দম্পতিদের হাতে টাকা তুলে দিতে এই কলেজ যা করল, শুনলে আপনি চমকে যাবেন!

আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলা ও পুরুষদের রেশম শাড়ি তৈরির আগে তসর গুটি পোকার চাষ শিখিয়ে স্বনির্ভর করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আসানসোলের এক কলেজ। এই উদ্যোগ স্থানীয় আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আসানসোল বি বি কলেজ ও বর্ধমান সেরিকালচারের যৌথ তত্ত্বাবধানে নামু জামডোবা গ্রামের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার নারী-পুরুষদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে রেশম তসর গুটি পোকার চাষের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই গুটি পোকার চাষ এলাকায় ভালো রকম সাড়া ফেলেছে। স্বাভাবিকভাবেই, তাদের তৈরি এই গুটি পোকা বাজারে বিক্রি করার পর উপার্জিত টাকা সরাসরি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা দ্রুত আর্থিক স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।

কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ বসু বলেন, “আমরা ওই গ্রামে দুটো গ্রুপ তৈরি করে দিয়েছি, যেখানে পুরুষ এবং মহিলারা যৌথ উদ্যোগে কাজ করছেন। তাদের সুবিধার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজ করে দেওয়া হয়েছে। এবং তাঁরা ভালো রকম কাজ করছেন।”

আসানসোল বি বি কলেজের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য, প্রায় ৫২টি আদিবাসী পরিবারের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা। এই পরিবারগুলির মধ্যে অনেকে দিনমজুর বা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, ফলে তাঁরা সবসময় কাজ পান না।

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে, ওই এলাকায় পূর্বে লাগানো ৩৫ হাজার অর্জুন গাছের চারা ছিল। বর্তমানে আরও সাড়ে সাত হাজার অর্জুন গাছের চারা লাগানো হয়েছে। এই গাছগুলির উপরেই রেশম তসর গুটি পোকা বেড়ে উঠছে। গুটি পোকা বড় হয়ে যাওয়ার পর সেগুলি বিক্রি করে যে আয় হচ্ছে, সেই সম্পূর্ণ আয় কলেজ কর্তৃপক্ষ মহিলাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কলেজের এই অভিনব উদ্যোগকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার মানুষজন।