প্যালেস্তাইন ইস্যুতে মোদী সরকারের ‘গভীর নীরবতা’! মানবিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সনিয়া গান্ধী!

প্যালেস্তাইন (Palestine) ইস্যুতে মোদী সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, গাজায় চলমান মৃত্যুমিছিল সত্ত্বেও মোদী সরকারের “গভীর নীরবতা” ভারতের মানবিকতা এবং নৈতিকতার উপরেই প্রশ্নচিহ্ন এনে দিয়েছে। সোনিয়া মনে করেন, এই ইস্যুতে বিশ্ব মঞ্চে ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া এবং নেতৃত্ব প্রদর্শন করা প্রয়োজন।

একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে কংগ্রেস নেত্রী কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদী এবং নেতানিয়াহুর “বন্ধুত্বের” দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। গাজায় মৃত্যুমিছিল নিয়ে আমেরিকার মনোভাবকেও সোনিয়া “বেদনাদায়ক এবং মানবতার উপর চরম আঘাত” বলে উল্লেখ করেন।

সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্ব মঞ্চে নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনই ভারতের মনোভাবকে ব্যক্ত করতে পারে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারত ১৯৮৮ সালেই প্যালেস্তাইনকে সর্বাগ্রে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে, মোদী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভোটাভুটির সময় দ্বিরাষ্ট্র নীতির বৈঠকে ভারতের বিরত থাকাকে তিনি “খুবই দুঃখজনক” বলে মনে করেন।

যদিও সম্প্রতি বিশ্বের ১৪২টি দেশের সঙ্গে ভারত অবশেষে প্যালেস্তাইন ও ইজরায়েল দ্বিরাষ্ট্র নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছে, তবে বিগত তিন বছরে গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে চারবার ভোটদান থেকে ভারতের বিরত থাকাই বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গাজায় ইজরায়েল হামলায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন, যাঁদের প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু এবং মহিলা। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু সরকার বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাঠানো ত্রাণও আটকে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোনিয়া বলেন, “গাজাবাসীকে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে বাধ্য করা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য সাহায্য সরবরাহে নিষ্ঠুরভাবে বাধা দিচ্ছে।”

তিনি ইজরায়েলের “দয়া দাক্ষিণ্যে” ঢুকতে দেওয়া ত্রাণকে “হতাশার সমুদ্রে কয়েক ফোঁটা জলকণা মাত্র” বলে কটাক্ষ করেন। কংগ্রেস নেত্রী মনে করেন, সমগ্র বিশ্ব প্যালেস্তাইন ইস্যুতে পদক্ষেপ নিতে অনেক দেরি করে ফেলেছে এবং এটিকে শুধুমাত্র একটি বিদেশ নীতি না ভেবে মানবতার খাতিরে ভারতের আরও কঠোরভাবে এর নিন্দা করা উচিৎ।