পরকীয়ার জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! স্ত্রী ও শ্যালিকার যোগসাজশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও বিষ খাইয়ে খুন যুবক!

পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নৃশংসভাবে খুন করা হলো এক যুবককে। উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার মাজহোলা থানার অন্তর্গত কুন্দনপুর এলাকায় এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের নাম পবন কুমার ঠাকুর (৩০)। অভিযোগ, পবনকে খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত তাঁর স্ত্রী আঁচল ও শ্যালিকা শিখা এবং তাদের প্রেমিকেরা।

ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পবন ও আঁচলের বিয়ের ছয় বছর আগেই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পবনের বাড়ির প্রতিবেশী অঙ্কিতের সঙ্গে আঁচলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে পবন গ্রাম ছেড়ে কুন্দনপুরে চলে এলেও, আঁচল ও অঙ্কিতের অবৈধ সম্পর্ক থামেনি। অন্যদিকে, আঁচলের বোন শিখার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় অজয় দিওয়াকর নামে আরেক যুবকের। এই দুই দম্পতি মিলে পবনকে পৃথিবী থেকে সরানোর নীল নকশা তৈরি করে।

খুনের নৃশংস চিত্র:
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পবন কাজ থেকে বাড়ি ফিরতেই শুরু হয় পূর্বপরিকল্পিত হামলা। অভিযোগ, আঁচল ও শিখা মিলে পবনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং নিজেদের প্রেমিকদের বাড়িতে ডেকে আনে। এরপর চারজন মিলে প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (ইলেকট্রিক শক) করে পবনকে অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে। শারীরিক অত্যাচারের পর পবনের মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পবন যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিল, তখন অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী ঘরেই পার্টি করছিল।

কীভাবে ফাঁস হলো রহস্য?
ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর জন্য আঁচল পবনের বাড়ির লোকেদের ফোন করে জানায় যে সে বিষ খেয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু আঁচল ময়নাতদন্তের বিরোধিতা করায় পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। শনিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই সামনে আসে প্রকৃত সত্য। রিপোর্টে শরীরে ইলেকট্রিক শক ও বিষক্রিয়ার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে।

গ্রেফতার ও তদন্ত:
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে আঁচল পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করে। এরপরই পুলিশ স্ত্রী আঁচল, শ্যালিকা শিখা এবং তাদের প্রেমিক অঙ্কিত ও অজয় দিওয়াকরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো বড় চক্র বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মাজহোলা থানার পুলিশ।