প্রেমিকার মৃত্যু, ৪৫ দিন পর প্রেমিকের বিষপান! সুইসাইড নোটে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে কি অন্য কেউ?

প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং আর্থিক প্রতারণার এক গোলকধাঁধায় জড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলার ভান্ডার এলাকা। গত ৩ এপ্রিল প্রেমিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুর মাত্র ৪৭ দিনের মাথায় প্রেমিকও আত্মঘাতী হলেন। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় দতিয়া জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ প্রেমিকের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোট গোটা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ৩ এপ্রিল ভান্ডারের তিঘরা খিরিয়া গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী মমতা দোহরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা মনু সেঙ্গারের সঙ্গে মমতার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন বিবাদের জেরেই মমতা আত্মঘাতী হন। পুলিশ মনু সেঙ্গারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করে।

পকেটে ছিল ‘মৃত্যু পরোয়ানা’:
প্রেমিকার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মানসিক চাপে ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে মনু সালফাস খেয়ে চরম পদক্ষেপ নেন। হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন পুলিশ তাঁর পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। সেখানে মনু স্পষ্টভাবে লিখে গেছেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় মরছেন না। চিঠিতে তিনি অরবিন্দ সিং রাজাওয়াত নামক এক ব্যক্তির দিকে আঙুল তুলেছেন। মনুর অভিযোগ, জমি বিক্রির ৬ লক্ষ টাকা অরবিন্দ ফেরত না দেওয়ায় দেনার দায়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। স্ত্রীর গয়না বিক্রি করেও তিনি দেনা মেটাতে পারেননি।

মমতার স্বামীর বিস্ফোরক অভিযোগ:
মমতার স্বামী রাজেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগ আবার অন্যরকম। তিনি জানান, মমতা ও মনুর মধ্যে সম্পর্ক ছিল ঠিকই, কিন্তু পরে তা তিক্ততায় রূপ নেয়। রাজেন্দ্রর দাবি, মনু তাঁর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেল করত ও হত্যার হুমকি দিত। পুলিশ এখন এই দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:

তৃতীয় খলনায়ক: মনুর সুইসাইড নোটে নাম থাকা অরবিন্দ সিং রাজাওয়াতের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জমি সংক্রান্ত লেনদেন: জমি বিক্রি এবং বকেয়া টাকা সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশি তৎপরতা: মৃত্যুর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মনুকে ধরতে পুলিশ তাঁর বাড়ি গিয়েছিল, কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি। এরপরই বিষপানের ঘটনাটি ঘটে।

ভান্ডারের এসডিওপি পি সি যাদব জানিয়েছেন, দুটি মৃত্যুকে আলাদা করে না দেখে একযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রেমের টানাপোড়েন, আর্থিক প্রতারণা নাকি ব্ল্যাকমেল—ঠিক কী কারণে দুটি পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়ল, তা ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।