বিয়ের আলোচনা পরিণত হলো খুনে! প্রেমিকার ছুরির কোপে খুন প্রেমিক, কী ঘটল ঝাড়খণ্ডে?

যে প্রেমের পরিণতি হওয়ার কথা ছিল বিয়েতে, তা-ই রূপ নিল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে। বিয়ের আলোচনা চলাকালীন তুমুল ঝগড়ার জেরে প্রেমিকের বুকে ছুরি চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় প্রেমিকের। মৃত্যুর আগে পুলিশের কাছে তাঁর দেওয়া শেষ বয়ানই এই মামলার মূল হাতিয়ার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রা জেলার লাওয়ালং থানা এলাকায়। অভিযুক্ত প্রেমিকা শাব্বু পরভিন ওরফে নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম মহম্মদ মুন্তাজির (৩৪)। তিনি লাতেহার জেলার বাসিন্দা ছিলেন। একই জেলার লামান্তা গ্রামের বাসিন্দা শাব্বু পরভিন ওরফে নূরজাহানের (২৪) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজনের পরিবারই এই সম্পর্ক জানত এবং তাদের বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্তাজির তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে তার গ্রামে যান।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এই আলোচনা দ্রুত উত্তপ্ত বচসায় পরিণত হয়। মুন্তাজির দ্রুত বিয়ে করতে চাইলেও, নূরজাহান সম্ভবত আরও কিছুটা সময় চাইছিলেন। কথা কাটাকাটি যখন চরমে ওঠে, তখন নূরজাহান ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে মুন্তাজিরের বুকে এবং পেটে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মুন্তাজিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তার আঘাত গুরুতর হওয়ায় রাঁচীর রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস)-এ স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে রাঁচি যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

তবে, ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মুন্তাজিরের মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে পুলিশের কাছে দেওয়া তাঁর শেষ বয়ান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি পুলিশের একটি টহলদারি গাড়ির সামনে পড়েন এবং যন্ত্রণার মধ্যেও পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তার এই মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিত্তিতেই পুলিশ শাব্বু পরভিন ওরফে নূরজাহানের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে।

লাওয়ালং থানার ওসি প্রশান্ত মিশ্র জানান, “মৃতের বয়ানের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরই অভিযুক্তকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”

পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে বিবাদ চরমে উঠেছিল, তা জানতে অভিযুক্তকে জেরা করা হবে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলবে।