প্রাণঘাতী ‘ব্রেন ইটিং অ্যামিবা’র আতঙ্ক, কেরলে এক বছরে ১৮ জনের মৃত্যু, কেন এত ভয়ঙ্কর এই জীবাণু

‘ঘিলু-খেকো অ্যামিবা’র (Brain Eating Amoeba) সংক্রমণে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে কেরলে। চলতি বছরে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ রাজ্যজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছেন।
কীভাবে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ?
চিকিৎসকদের মতে, ‘ঘিলু-খেকো অ্যামিবা’ মূলত নোংরা ও অপরিষ্কার পুকুর, নদী, হ্রদ বা কুয়োর জলে পাওয়া যায়। সাঁতার কাটা বা স্নান করার সময় এই অ্যামিবা নাক দিয়ে মানব মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, যার ফলে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটে। সম্প্রতি তিরুবনন্তপুরমের অক্কুলাম পর্যটন কেন্দ্রের একটি পুকুরে স্নান করে এক ১৭ বছরের কিশোর এই অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার পর ওই পুকুরে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংক্রমণের লক্ষণ কী?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অ্যামিবা শরীরে প্রবেশ করলে ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে তার লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
মাথা ব্যথা
বমি
ঘাড়ে যন্ত্রণা
ঝিমুনি
নাক বন্ধ হওয়া
হাঁচি
জ্বর
স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া
উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ?
কেরলে এই রোগ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। গত বছর ২০২৪ সালে ৩৬ জন এই অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরে এই সংখ্যা আরও বেশি। কোঝিকোড় জেলার একটি মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পরীক্ষার পর ১৫ আগস্ট জানা যায় যে, এই অ্যামিবার সংক্রমণে এক নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। যা রাজ্যজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
কেরল সরকার এই সংক্রমণ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। নোংরা ও অপরিষ্কার পুকুর, কুয়োর জলে স্নান করা বা সাঁতার কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সুইমিং পুল, জলের ট্যাঙ্ক ও কুয়ো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।