নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নতুন কমিটি নিয়ে বিদ্রোহ, মালদায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আগুন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদহে দলের ব্লক কমিটি ঢেলে সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন ব্লকে শুরু হয়েছে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় ভালো ফল করলেও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল। সেই ব্যর্থতার পর থেকেই সংগঠনকে মজবুত করতে এই কমিটি গঠন করা হয়, কিন্তু তা দলের অন্দরেই নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

‘কোন্দলে’ উত্তাল মালদহের তৃণমূল
মালদহের ১৫টি ব্লকের মধ্যে ১৪টিতেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু ইংরেজবাজার ব্লক নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা গেছে, এই ব্লকে কাদের জায়গা দেওয়া হবে তা নিয়ে দলের থিংক ট্যাঙ্ক এখনও নিশ্চিত নয়। এর মধ্যেই শোনা যাচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে বিপুল সম্পত্তির জন্য কটাক্ষ করেছিলেন, সেই প্রসেনজিৎ ঘোষকেই ব্লক সভাপতির পদে ভাবা হচ্ছে। দলের নিচুতলার কর্মীদের প্রশ্ন, “টাকা থাকলেই কি দলের বড় পদ কেনা যায়?”

শুধু ইংরেজবাজার নয়, হরিশ্চন্দ্রপুর-১(এ) ব্লকেও বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। বুলবুল খান ঘনিষ্ঠ জিয়াউর রহমানকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে বিধায়ক তজমুল হোসেন ঘনিষ্ঠ মোশারফ হোসেনকে সেই পদে বসানো হয়েছে। বুলবুল ঘনিষ্ঠ অন্য কোনো নেতাকে নতুন কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি, যা দুই প্রভাবশালী নেতার ‘ঠান্ডা লড়াই’ প্রকাশ্যে এনেছে। কর্মীদের অভিযোগ, এর ফল বিধানসভা নির্বাচনে দলকে ভুগতে হবে। চাঁচল-১, মোথাবাড়ি, মানিকচকের মতো হেভিওয়েট ব্লকেও একই ধরনের ক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কী বলছেন জেলা নেতৃত্ব?
জেলার এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অজানা নয়। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কোন্দল মেটাতে জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠকও করেছিলেন। দলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি জানিয়েছেন, “সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই নতুন ব্লক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে একজোট হয়ে আগামী নির্বাচনে ১২টি আসনেই জয় নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ তৃণমূল নেতার কথায়, “নেতৃত্ব শুধু এক পক্ষের কথা শুনে কমিটি গঠন করছে। সব পক্ষের কথাকে গুরুত্ব না দিলে দলেরই ক্ষতি হবে।” সামনে যখন বিজেপি এবং বামেরা মালদহে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন তৃণমূলের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।