ইন্ডিয়া জোটে ‘বিশ্বাসঘাতক’, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস-ভোটিংয়ের অভিযোগ অভিষেকের

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী জোটের অন্দরে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র চোরা স্রোত বইছে। কারণ, হিসেব অনুযায়ী ইন্ডিয়া জোটের প্রার্থী বি. সুদর্শন রেড্ডির ৩১৫ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩০০টি ভোট। অন্যদিকে, এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন হিসেবের বাইরে অতিরিক্ত ১৪টি ভোট পেয়েছেন। ফলে বিরোধী শিবির থেকে ক্রস-ভোটিং হয়েছে, এই সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

এই ক্রস-ভোটিংয়ের অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিজেপি সাংসদ কেনাবেচার চেষ্টা করেছে। তিনি আরও বলেন, গোপন ব্যালটে ভোট হওয়ায় ঠিক কতজন ক্রস-ভোটিং করেছেন তা বলা সম্ভব নয়, তবে অনুমান করা যায় যে পাঁচ-সাতজন বিরোধী সাংসদ এই কাজ করতে পারেন।

আপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানেই থামেননি। তিনি ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক আম আদমি পার্টির (আপ) বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর মতে, কিছু দল সরাসরি বিজেপিকে সাহায্য করছে। তিনি বলেন, আপের কিছু রাজ্যসভার সাংসদ সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন করেন। এমনকি, একজন মহিলা সাংসদ সরাসরি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরোধিতা করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

বিজেপি’র বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
অভিষেক আরও বলেন, বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “একজনের ভোট কিনতে ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।” তিনি মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের মতো উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে কীভাবে টাকা দিয়ে বিধায়ক কিনে নির্বাচিত সরকারকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অভিষেক বলেন, “মানুষের প্রতিনিধিকে টাকা দিয়ে কেনা যায়, কিন্তু জনতাকে কীভাবে কিনবেন?” তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেও বিজেপি বাংলায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে।