GST: সিগারেট ও গুটখার দাম বাড়লেও কেন কমছে বিড়ির দাম? কারণ জানলে অবাক হবেন

বুধবারের জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে সিগারেট এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের উপর জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে সিগারেট ও গুটখার মতো পণ্যের দাম বাড়বে। তবে, একই বৈঠকে বিড়ির উপর জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জিএসটি কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তটি অনেককে অবাক করেছে। কারণ, সাধারণত সব ধরনের তামাকজাত পণ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিড়ির উপর জিএসটি কমানোর পেছনে একটি অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে বিড়ির দাম কিছুটা কমতে পারে।

শ্রমিকদের স্বার্থ: বিড়ি উৎপাদন শিল্পে দেশের ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ জড়িত। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আরএসএস-এর অনুরোধ: আরএসএস-এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিড়ির উপর থেকে ২৮ শতাংশ জিএসটি কমানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, উচ্চ জিএসটি হার বিড়ি উৎপাদন শিল্পের কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের প্রশ্ন, যদি সিগারেট ক্ষতিকর হয়, তাহলে বিড়ি ক্ষতিকর নয় কেন? অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, বিড়ি সিগারেটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের মানুষ এটি সেবন করে, যা তাদের স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের যোগসূত্রও খুঁজেছেন কেউ কেউ।

জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছেন যে, নতুন জিএসটি হার আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে, সিগারেট, পান মশলা এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের বর্ধিত জিএসটি আপাতত কার্যকর হচ্ছে না, কারণ এগুলির উপর ধার্য কর একটি বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ ও সুদ পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা হয়। সেই ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর দাম একই থাকবে।

এছাড়াও, নতুন জিএসটি সংস্কারে বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, শিক্ষা সরঞ্জাম এবং বীমার মতো পরিষেবা জিএসটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।