আদালতের রোষের মুখে রাজ্য সরকার! খেজুরির ২ BJP কর্মীর মৃত্যু রহস্যে ১৭ জনের কল রেকর্ড চাইল হাইকোর্ট

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি এলাকায় জলসা দেখতে গিয়ে দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দু’বার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি সব্বর রসিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত মোট ১৭ জনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপ সিবিআই তদন্তের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
গত ১২ জুলাই, খেজুরি এলাকায় একটি জলসা দেখতে গিয়ে সুজিত দাস এবং সুজিত পাইক নামে দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুলিশ দাবি করে যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতদের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাদের খুন করা হয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে এসএসকেএম হাসপাতালে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়, যেখানে মৃতদেহগুলিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এই দুই রিপোর্টের ভিন্নতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে কীভাবে অত্যাচারের দাগ এল? একটা মেলায় এত বড় ঘটনা ঘটল অথচ কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই? এটা কি হতে পারে? নিশ্চিত সাক্ষীরা ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের ভয় দূর করুন।”
বিচারপতি আরও বলেন, “একই ঘটনার দুটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আলাদা হলে মানুষের বিশ্বাস সম্পূর্ণ ব্যবস্থার ওপর থেকে উঠে যাবে।” তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু নাও হতে পারে, কারণ দেহে অন্যান্য আঘাতের চিহ্ন ছিল।
১৭ জনের কল রেকর্ড তদন্তের নির্দেশ:
বিচারপতি বসাক এই মামলার তদন্তে যুক্ত ১৭ জনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার (IO), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC), এবং মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা যারা প্রথম ময়নাতদন্ত করেছিলেন। একই সঙ্গে, বিচারপতি নির্দেশ দেন যে এই ১৭ জনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করতে হবে। সিবিআই তদন্তের বিষয়ে মূল মামলাতেই সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।