বিশেষ: যে রানি ৬০০ কুমারীর রক্তে স্নান করতেন চিরযৌবনা থাকার জন্য, জেনেনিন তার পরিচয়?

পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক সিরিয়াল কিলারের নাম আমরা জানি, কিন্তু তাদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন যিনি নারী হয়েও নৃশংসতার সব সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তিনি হলেন হাঙ্গেরির রানি এলিজাবেথ বাথরি। ইতিহাসে তিনি ‘ব্লাড কাউন্টেস’ বা ‘কাউন্টেস ড্রাকুলা’ নামে পরিচিত। নিজের সৌন্দর্য ও যৌবন ধরে রাখার জন্য তিনি প্রায় ৬০০ কুমারী নারীকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের রক্তে স্নান করতেন।

ভয়ঙ্কর সব অত্যাচারের সাক্ষী এক শৈশব
১৫৬০ সালে এক অভিজাত পরিবারে জন্ম হয়েছিল এলিজাবেথের। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন বদমেজাজি এবং খিটখিটে স্বভাবের। সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠলেও, ছোটবেলা থেকেই তিনি ভয়ানক সব অত্যাচারের দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত ছিলেন। একবার তিনি জীবন্ত ঘোড়ার পেট কেটে অপরাধীকে ঢুকিয়ে সেলাই করে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা দেখেছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তার মনকে আরও হিংস্র করে তোলে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, মৃগী বা মাইগ্রেনের সমস্যা এবং পরিবারের নিষ্ঠুর আচরণ তার মানসিকতাকে প্রভাবিত করেছিল।

অত্যাচারী স্বামী এবং নতুন নতুন নির্মম পন্থা
মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফেরেন্স নাডাসডি নামের এক সেনাপতির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ফেরেন্সও তার মতোই অত্যাচারী ছিলেন। অটোমান বন্দিদের ওপর তিনি নির্মম অত্যাচার চালাতেন। এলিজাবেথ তার স্বামীর কাছ থেকে আরও নৃশংসতার শিক্ষা পান। বিয়ের পর স্বামী যুদ্ধে চলে গেলেও চিঠি মারফত তিনি স্ত্রীকে নতুন নতুন অত্যাচারের পদ্ধতির কথা জানাতেন। কুমারী মেয়েদের রক্ত তাকে চিরযৌবনা রাখবে, এই বিশ্বাসে এলিজাবেথ একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাদের মাংসও খেতেন।

নৃশংসতার শেষ নেই
এলিজাবেথের অত্যাচার শুধু রক্তপানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার সহযোগী দাসদের সাহায্যে তিনি কুমারী মেয়েদের হত্যার জন্য ভয়ংকর সব পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। ছোট খাঁচায় বন্দি করে তাদের সিলিং থেকে ঝুলিয়ে রেখে বরফ জল ঢালা হতো, যাতে তারা ঠান্ডায় জমে মারা যায়। একবার তিনি এক দাসীর শরীর থেকে মাংস কেটে তাকে দিয়েই রান্না করিয়ে তাকে খেতে বাধ্য করেন। এছাড়া তিনি মেয়েদের শরীরে মধু মাখিয়ে বাইরে রেখে দিতেন, যাতে মৌমাছি ও পোকামাকড় তাদের আক্রমণ করে। স্বামীর মৃত্যুর পর তার নৃশংসতা আরও বেড়ে যায়।

অবশেষে বিচারের কাঠগড়ায়
১৬০৩ সালে রাজা কাউন্ট গির্জি থুরজো এলিজাবেথকে বিচারের আওতায় আনেন। একজন বিখ্যাত শিল্পী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। তল্লাশির পর তার প্রাসাদ থেকে বহু মেয়েদের মৃতদেহ এবং ভয়ংকর সব অত্যাচারের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এলিজাবেথের সহযোগীদের জবানবন্দি এবং তার নিজের ডায়েরি থেকে জানা যায়, তিনি ৬০০ জনেরও বেশি মেয়েকে হত্যা করেছেন। গরিব পরিবারের মেয়েদের কাজের লোভ দেখিয়ে তার কাছে আনা হতো এবং তারা শিকার হতো তার পৈশাচিক স্বভাবের।

তার চার সহযোগীকে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর এলিজাবেথকে জানালাবিহীন একটি ছোট ঘরে বন্দি রাখা হয়। ১৬১৪ সালে ৫৪ বছর বয়সে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এলিজাবেথের পরিবারেও অনেকেই ছিলেন নিষ্ঠুর প্রকৃতির। তার ফুফু ক্লারা ছিলেন জাদুকরী ও উভকামী, যিনি স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন। হয়তো বংশগতভাবেই এই নিষ্ঠুরতা পেয়েছিলেন এলিজাবেথ।