ভবিষ্যতের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরই টুকলি করতে ব্যস্ত, “D.El.Ed” পরীক্ষার্থীদের অবাক করা কান্ড

একদিকে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পর্ষদের কড়া নজরদারি, অন্যদিকে ডিএলএড পরীক্ষায় ভবিষ্যতের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবাধ টুকলি! এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে রামপুরহাট গার্লস হাইস্কুলের সামনে। জানা গিয়েছে, ডিএলএড পার্ট টু পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে টুকলির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা দেখে অনেকেই হতবাক।
পর্ষদ সূত্রে খবর, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নকল রুখতে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে মেটাল ডিটেক্টর-সহ অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও রামপুরহাট গার্লস হাইস্কুলের বাইরে পরীক্ষার্থীরা টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। মুর্শিদাবাদের মোড়গ্রাম, নলহাটির লোহাপুর-সহ পাঁচটি কলেজের প্রায় ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী এই স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরুর আগে স্কুলের সামনের টাউনহলের বারান্দায় বসে অনেক পরীক্ষার্থী টুকলি বানাচ্ছিলেন। তারা চিরকুটে লিখে সেগুলি পকেট বা শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে রাখছিলেন। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বেলা ১২টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে যখন পরীক্ষার্থীরা স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন, তখন গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তল্লাশিতে কোনো টুকলি ধরা পড়েনি।
এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, যারা আগামী দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের পথ দেখাবেন, তারাই যদি এভাবে নকল করেন, তবে শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এই প্রসঙ্গে রামপুরহাট গার্লস হাইস্কুলের এক শিক্ষক জানান, “স্কুলের বাইরে পরীক্ষার্থীরা কী করছেন, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে পরীক্ষার হলের ভেতরে কোনোভাবেই টুকলি করা সম্ভব নয়। আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি এবং পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।” যদিও এই ঘটনার পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।