DA-মামলায় নতুন মোড়, সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এলো সামনে

মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে আগামী ২৬শে আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। এই দীর্ঘসূত্রিতায় সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা হতাশ হলেও, এরই মধ্যে একটি নতুন তথ্য সামনে এসেছে যা মামলার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারে। দুর্গাপুরের বাসিন্দা পলাশ দত্তের করা একটি আরটিআই-এর জবাবে রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর ডিএ প্রাপক কর্মচারীদের সংখ্যার একটি বিস্তারিত হিসাব দিয়েছে।

২২শে জুলাই, ২০২৫-এ দেওয়া এই আরটিআই উত্তরটি ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে পেশ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আরটিআই-এর জবাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, এআইসিটিই, ইউজিসি, ওয়েজেস পে-স্কেলের কর্মচারী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড (এইচআরএমএস-এর অধীনে) এই সব বিভাগ মিলিয়ে মোট ৩,৪০,১৩১ জন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ডিএ পাওয়ার যোগ্য।

রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে এই পরিসংখ্যানটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার আদালতে একটি নির্দিষ্ট এবং আনুষ্ঠানিক সংখ্যা পেশ করতে পারবে, যা এতদিন আলোচনায় ছিল না। এই পরিসংখ্যানটি ডিএ-এর আর্থিক দায়ভার নিরূপণেও সহায়ক হবে।

তবে এই তথ্যে কিছু জটিলতাও রয়েছে। আরটিআই উত্তরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংখ্যায় বেশ কিছু ক্ষেত্রের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে, ডিএ-এর প্রকৃত প্রাপক এবং তার আর্থিক প্রভাবের সম্পূর্ণ চিত্র এই আরটিআই-এর মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর ডিএ মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই নতুন তথ্যটি রাজ্যের অর্থসংস্থান এবং কর্মচারীদের দাবির মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই আরটিআই উত্তরটি কীভাবে আলোচিত হয় এবং আদালত এটিকে কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ।