নিশানায় ছিলেন শুভেন্দু, অনুব্রতর কুকথা প্রসঙ্গ উঠতেই মেজাজ হারালেন পুলিশের স্ত্রী-রা

সম্প্রতি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিরোধী নেতাদের পক্ষ থেকে পুলিশকে হেনস্থা ও অসম্মান করার প্রতিবাদে এক ব্যতিক্রমী সাংবাদিক বৈঠক করলেন পুলিশকর্মীদের সহধর্মিণীরা। বুধবার এই বৈঠকে তাঁরা পুলিশকে ‘জুতো দেখানো’ এবং ‘অশালীন ভাষায় আক্রমণ’ করার অভিযোগ তোলেন। তবে সাংবাদিকরা অনুব্রত মণ্ডলের কুকথার প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁরা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।

পুলিশকর্মীদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের স্বামীরা দিনের পর দিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের গালিগালাজ করছেন এবং হেনস্থা করছেন, যা তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। একজন পুলিশকর্মীর স্ত্রী বলেন, “পুলিশকে কেন জুতো দেখানো হবে? কেন তাঁদের অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হবে? আমাদের স্বামীরা তো কেবল নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন।” তাঁদের অভিযোগের মূল নিশানায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা।

কিন্তু এই সাংবাদিক বৈঠকের সময় যখন সাংবাদিকরা অনুব্রত মণ্ডল প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন যে, তিনি যখন প্রকাশ্যে পুলিশকে গালাগালি করেছিলেন, তখন কেন এই ধরনের প্রতিবাদ করা হয়নি, তখন পুলিশকর্মীদের স্ত্রীরা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। তাঁরা সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং বলেন যে তাঁদের প্রতিবাদ শুধুমাত্র বর্তমান ঘটনার জন্যই।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পুলিশকর্মীদের স্ত্রীদের প্রতিবাদ তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মানের জন্য ন্যায্য। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এই প্রতিবাদ কি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে? কেন অতীতের একই ধরনের ঘটনায় তাঁরা নীরব ছিলেন?

সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পুলিশ পরিবারের এই প্রতিবাদ হয়তো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। অন্যদিকে, অনেকেই বলছেন, পুলিশকর্মীদের সম্মান রক্ষা করা সমাজের কর্তব্য এবং তাঁদের স্ত্রীদের এই প্রতিবাদ প্রশংসনীয়।