হাতে ১৫ হাজারের বেশি রাখি! “এই কলিযুগে এত ভালবাসা…,”- রাখি পূর্ণিমায় রেকর্ড গড়ে আবেগাপ্লুত খান স্যার

জনপ্রিয় ইউটিউবার এবং শিক্ষক খান স্যার রাখি পূর্ণিমার দিনে এক নতুন রেকর্ড গড়লেন। তাঁর কোচিং সেন্টারের প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ছাত্রী তাঁকে রাখি পরিয়ে ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধেছেন। এই বিশেষ দিনে ভাই-বোনের ভালোবাসার এই দৃশ্য দেখতে শ্রীকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হলে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ।
প্রতি বছরই খান স্যারের কোচিং সেন্টারে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করা হয়। কিন্তু এই বছর ছাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানটি শ্রীকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হলে স্থানান্তরিত করা হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত চলে রাখি পরানোর এই উৎসব। এই সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় ধরে খান স্যার মঞ্চে বসে হাসিমুখে তাঁর বোনদের রাখি গ্রহণ করেন।
এই বিশেষ দিনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে খান স্যার তাঁর ইনস্টাগ্রাম ভিডিও বার্তায় বলেন, “জাতি, ধর্ম, জায়গা, রাজ্য উপেক্ষা করে মেয়েরা আজ এখানে এসেছেন। রাখি বন্ধন উৎসব ভারতের গৌরব। এর চেয়ে ভালো উৎসব আর হতে পারে না।” তিনি বলেন যে এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা তাঁদেরই দায়িত্ব। তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন যে এই কলিযুগেও তিনি এত ভালোবাসা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “গোটা পৃথিবীতে আমি ছাড়া এত রাখির পরার সৌভাগ্য হয়তোই আর কারুর হয় না। হয়তো আর কেউ এত বোনেদের ভালোবাসা পান না।”
খান স্যারের এই ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ৮০ লক্ষেরও বেশি ভিউ পেয়েছে, যা তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। এই বিশেষ দিনে তাঁর ছাত্রীদের জন্য খান স্যার ১৫৬ রকমের পদের আয়োজন করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খান স্যারের নিজের কোনো বোন নেই। কিন্তু রাখি পূর্ণিমার এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করে দিল যে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসার বন্ধন তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। তিনি তাঁর শিক্ষাদানের অদ্ভুত কৌশলের জন্য পরিচিত। যদিও তিনি নিজের নাম গোপন রাখতে পছন্দ করেন, তবে জানা যায় তাঁর আসল নাম ফয়জল খান। তিনি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় ভালো এই শিক্ষক এনডিএ পরীক্ষাতেও সফল হয়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হননি।