মাঝ আকাশে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান-বিভ্রাট, ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করাতে গিয়েও বিপত্তি, জানুন বিস্তারে

বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াল তিরুঅনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চেন্নাই বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। এই ঘটনায় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল-সহ কেরলের ৪ জন এবং তামিলনাড়ুর একজন সাংসদসহ প্রায় সমস্ত যাত্রী দুর্ঘটনার খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংসদদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: এক ঘণ্টার আকাশে চক্কর
কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল নিজের এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, উড্ডয়নের কিছু পরেই বিমানটিতে তীব্র ঝাঁকুনি এবং অস্থিরতা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মাঝ আকাশে থাকার পর পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কথা ঘোষণা করেন এবং জরুরি অবতরণের জন্য চেন্নাই বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন।

বেণুগোপাল আরও বলেন, “প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিমানটি বিমানবন্দরের আশেপাশে চক্কর কাটতে থাকে, অবতরণের অনুমতির অপেক্ষায়।” সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা করা হয়। সাংসদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট রানওয়েতে তখন আরেকটি বিমান দাঁড়িয়ে ছিল। এই দৃশ্য দেখে পাইলট দ্রুততার সঙ্গে বিমানটিকে আবার আকাশে তুলে নেন, যা বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে সবাইকে বাঁচিয়ে দেয়। দ্বিতীয়বার চেষ্টার পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। বেণুগোপাল পাইলটের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের জীবন ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে পারে না।” তিনি দ্রুত এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে DGCA এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে (MoCA) ট্যাগ করেছেন।

এয়ার ইন্ডিয়ার পাল্টা জবাব: ‘রানওয়েতে অন্য বিমান ছিল না’
সাংসদের গুরুতর অভিযোগের জবাবে এয়ার ইন্ডিয়া একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই বিমানটিকে চেন্নাইয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট করে জানায়, প্রথমবার অবতরণের সময় গো-অ্যারাউন্ড নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল চেন্নাই এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) থেকে, কারণ রানওয়েতে অন্য কোনো বিমান ছিল না। তারা আরও জানায় যে তাদের পাইলটরা এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুপ্রশিক্ষিত এবং এক্ষেত্রে তাঁরা সমস্ত স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর অনুসরণ করেছেন।

এই ঘটনার পর বিমান চালক এবং যাত্রীদের অভিযোগের মধ্যে একটি বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। DGCA বা অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও কোনো তদন্তের প্রতিক্রিয়া না আসায় এই বিতর্কের চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় কোন পক্ষের দাবি সত্যি প্রমাণিত হয় এবং এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রী সুরক্ষার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।