উপমুখ্যমন্ত্রীদের দুটো ভোটার কার্ড হওয়াটাই কি ট্রা়ডিশন বিহারে? উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গেল ECI-র নোটিস

বিহারে উপমুখ্যমন্ত্রীদের দুটি ভোটার কার্ড থাকা কি নতুন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে? প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের পর এবার বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিনয় কুমার সিনহা একই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছেন। দুটি ভিন্ন জায়গায় ভোটার হিসেবে নাম থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বিহারের কংগ্রেস প্রধান রাজেশ কুমার তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে খসড়া নির্বাচনী তালিকার ছবি পোস্ট করেন। সেই তালিকায় দেখা যায়, বিনয় কুমার সিনহার নাম লক্ষ্মীসরাই এবং পাটনার বাঁকিপুর— দুটি ভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবও সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিতর্ক বাড়তেই বাঁকিপুরের নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসার বিনয় কুমার সিনহাকে নোটিস পাঠিয়েছেন। আগামী ১৪ই আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁকে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কীভাবে দুটি আলাদা জায়গায় তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের জবাবে উপমুখ্যমন্ত্রী বিনয় কুমার সিনহা এটিকে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এক জায়গা থেকেই ভোট দিই। গতবারও তাই করেছিলাম।” তিনি আরও জানান, আগে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নাম বাঁকিপুর আসনে নথিভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি লক্ষ্মীসরাইয়ে নাম স্থানান্তরের জন্য আবেদন জানান। কিন্তু কোনো কারণে বাঁকিপুর থেকে তাঁর নাম বাদ যায়নি।
বিনয় কুমার সিনহা তেজস্বী যাদবের নাম উল্লেখ করে বলেন, “জঙ্গলরাজের রাজপুত্র ভুয়ো তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য ওঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।” তবে নির্বাচন কমিশনের নোটিসের পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উপমুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কী উত্তর দেন এবং এই ঘটনা রাজনীতির ময়দানে নতুন কোন দিকে মোড় নেয়।