‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে পথে ইন্ডিয়া জোট, সাংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন পথ যাত্রা!

ভোট কারচুপির অভিযোগের প্রতিবাদে আজ এক নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে দেশের রাজধানী। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবন থেকে ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সাংসদ পদযাত্রা শুরু করবেন নির্বাচন কমিশন (EC) দফতরের দিকে। এই প্রতিবাদের মূল বার্তা— লোকসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন ভোটে বিজেপি কারচুপির মাধ্যমে ‘ভোট চুরি’ করেছে এবং এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বিহার ও কর্ণাটকের ভোট
এই বিক্ষোভের প্রধান কারণ ভোটমুখী বিহারে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া। বিরোধী দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু নির্দিষ্ট মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভুয়ো নাম যোগ করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়া জোটের দাবি, এই ধরনের কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি গত লোকসভা ভোটসহ একাধিক নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী কর্ণাটকে গত লোকসভা ভোটে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বেঙ্গালুরু সেন্ট্রালের মহাদেবপুরা আসনে এক ভোটার দুইবার ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এই আসনে প্রায় এক লক্ষের বেশি ভুয়ো ভোটার রয়েছে, যাদের মধ্যে দ্বৈত ভোটার, ভুয়ো ঠিকানা এবং একই ঠিকানায় একাধিক ভোটারের মতো অসঙ্গতি রয়েছে। তবে এই অভিযোগের প্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক রাহুল গান্ধীকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন।

রাহুল গান্ধীর বার্তা ও দিল্লি পুলিশের প্রতিক্রিয়া
রাহুল গান্ধী ‘এক্স’-এ (পূর্বের টুইটার) বলেন, “ভোট চুরি এক ব্যক্তি, এক ভোট-এর মূল ধারণায় আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্ভুল ভোটার তালিকা অপরিহার্য।” তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানান, যা রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ যাচাই করতে পারবে। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই অনলাইনে ‘ভোট চুরি’ বিরোধী প্রচার শুরু করেছে।

তবে, পদযাত্রার অনুমতির ব্যাপারে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’-এর দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। গত লোকসভা নির্বাচনের পর বিরোধীদের এ ধরনের যৌথ প্রতিবাদ এটিই প্রথম।

এই পদযাত্রাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াই। এই বিক্ষোভ আগামী দিনে রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।