ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধের মধ্যেই চিন সফরে যাচ্ছেন মোদী, খবরে কী বলছে হোয়াইট হাউস?

ভারতের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং বাণিজ্য আলোচনায় অস্বীকৃতির আবহে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন চিন সফর প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন, যা মোট ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও তেল কেনার জন্যই এই ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, যতক্ষণ না একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যাচ্ছে, ততক্ষণ ভারতের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য আলোচনা হবে না।

এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা সম্পর্কে খুব স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছেন।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভারত আমাদের কৌশলগত অংশীদার এবং আমাদের ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে যেমন হয়, অংশীদার দেশের সঙ্গে সব বিষয়ে ১০০ শতাংশ একমত হওয়া সম্ভব নয়।”

উল্লেখ্য, এই মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাপান ও চিন সফরে যাচ্ছেন। তিনি ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হতে চলা সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। SCO-এর সদস্য দেশ হিসেবে রাশিয়াও সম্মেলনে তাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। এই সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২০ সালে গালওয়ানে সংঘর্ষের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম চিন সফর। SCO-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে ভারত, চিন ও রাশিয়া ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান রয়েছে।