উন্ননয়নের প্রথম দফায় গ্রেট নিকোবর দ্বীপে বলি ১২,৪২৮ গাছ, উদ্বিগ পরিবেশবিদরা

পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এবং হিমালয়ে ঘন ঘন বিপর্যয় থেকে শিক্ষা না নিয়ে এবার বঙ্গোপসাগরের গ্রেট নিকোবর দ্বীপের প্রকৃতির ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। ‘গ্রেট নিকোবর ট্রাঙ্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোড’ তৈরির জন্য ২৩৮.৭৬ হেক্টর অরণ্যভূমি ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রথম দফাতেই প্রায় ১২ হাজার ৪২৮টি গাছ কেটে ফেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যসভায় আপ সাংসদ এন.ডি. গুপ্তের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি গ্রেট নিকোবরের ৩৫টিরও বেশি বসতি এলাকাকে সংযুক্ত করবে।
পরিবেশপ্রেমীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। উত্তরাখণ্ডের চারধাম হাইওয়ে নির্মাণের জন্য ৫৫ হাজারেরও বেশি গাছ কাটার ফলে হিমালয়ে নিয়মিত ভূমিধস ও বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এমন বৃহৎ বৃক্ষনিধনের পরিকল্পনা পরিবেশের ওপর মানুষের দৌরাত্ম্যকেই আবার প্রমাণ করে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রাস্তা তৈরির জন্য স্থানীয় আদিবাসী এলাকার জমি, সরকারি খাস জমি, ব্যক্তিগত জমি এবং সংরক্ষিত অরণ্যভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এই বিপুল পরিমাণ জমিকে ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ বলি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই অরণ্য ধ্বংসের কাজটি নাকি ‘অরণ্য সংরক্ষণ আইন’ মেনেই করা হচ্ছে, যা পরিবেশবিদদের কাছে এক প্রহসন।
এর আগে ব্রাজিলে পরিবেশ সম্মেলন চলাকালীন অ্যামাজন অরণ্যের ৮ কিলোমিটার এলাকা সাফ করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় পরিবেশবিদরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, পরিবেশ ধ্বংস করে কীভাবে পরিবেশ রক্ষার পরিকল্পনা করা যায়। নিকোবরের এই ঘটনাটিও সেই একই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।
যদিও কেন্দ্র দাবি করছে যে এই প্রকল্পের ফলে এলাকার ‘বিরাট উন্নতি’ হবে এবং স্থানীয় শোমপেন ও নিকোবরীয় আদিবাসীরাও নাকি স্বেচ্ছায় ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ জমি দান করেছেন। কিন্তু পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্দামান ও নিকোবরের ৫৭২টি দ্বীপের মধ্যে মাত্র ৩৮টিতে মিষ্টি জল পাওয়া যায়। ১২ হাজারেরও বেশি গাছ কাটা হলে সবার আগে ওই অঞ্চলে জলসঙ্কট দেখা দেবে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রাকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
এই সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, উন্নয়ন এবং প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কতটা উদাসীন।