“পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন সচিন!”—জানেন কি সেই অজানা তথ্য?

আজ ২৪ এপ্রিল। ১৯৭৩ সালের এই দিনেই মুম্বইয়ের এক মারাঠি পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন এক শিশু, যিনি বড় হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্র বদলে দেবেন তা কেউ জানত না। আজ সেই সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের ৫৩তম জন্মদিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি শতরানের মালিককে নিয়ে চর্চার শেষ নেই, কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের এমন এক অধ্যায় আছে যা অতি বড় ভক্তও হয়তো জানেন না। জানেন কি, ভারতের হয়ে খেলার আগেই পাকিস্তানের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন সচিন?

ইমরান খানের নির্দেশে পাকিস্তানের হয়ে ফিল্ডিং!

ঘটনাটি ১৯৮৭ সালের। মুম্বইয়ের ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ চলছিল। সচিনের বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। পাকিস্তান দলের দুই মহাতারকা জাভেদ মিয়াদাদ এবং আব্দুল কাদির লাঞ্চ বিরতির পর ক্লান্তিতে আর মাঠে নামতে পারেননি। পাকিস্তান দলের ফিল্ডার কম পড়ে যাওয়ায় তৎকালীন অধিনায়ক ইমরান খান মাঠের বাইরে বল কুড়িয়ে বেড়ানো কিশোর সচিনকে ডেকে নেন ফিল্ডিং করার জন্য।

কপিল দেবের শট ও সচিনের আক্ষেপ

পাকিস্তানের হয়ে প্রায় ২৫ মিনিট লং-অন পজিশনে ফিল্ডিং করেছিলেন সচিন। নিজের আত্মজীবনী ‘Playing it My Way’-তে মাস্টার ব্লাস্টার লিখেছেন, সেই সময় ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব একটি জোরালো শট মারেন যা সচিনের দিকেই এসেছিল। কিন্তু বলটি তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি। সচিন মজা করে লিখেছিলেন, “পরে বন্ধুকে বলেছিলাম, যদি আমাকে মিড-অনের বদলে মিড-অফ পজিশনে রাখা হতো, তবে হয়তো কপিল দেবের ক্যাচটা আমি ঠিকই ধরে নিতাম!”

রেকর্ড ও আবেগের অপর নাম সচিন

এর ঠিক দু’বছর পর ১৯৮৯ সালে ১৬ বছর বয়সে সেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তাঁর। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। ২৪ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ভারতকে ২০১১ বিশ্বকাপ জেতানো থেকে শুরু করে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। আজও কোটি কোটি মানুষের কাছে ক্রিকেট মানেই সচিন তেন্ডুলকর।