“দোষারপ করতে পারবে না”, ট্রাম্পের ৫০% শুল্ক নিয়ে মোদীকে তোপ দাগলেন খাড়গে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি এই পরিস্থিতিকে মোদী সরকারের ‘বিদেশ নীতির ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতির জন্য আপনারা কংগ্রেসের ৭০ বছরের শাসনকে দোষারোপ করতে পারবেন না।’ খাড়গে মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মল্লিকার্জুন খাড়গে লেখেন, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ স্থানে। আমাদের জোটনিরপেক্ষতার আদর্শে নিহিত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এক সময়-পরীক্ষিত নীতি। যদি কোনো দেশ একতরফাভাবে ভারতকে এর জন্য শাস্তি দিতে চায়, তাহলে তারা এটা বুঝতে পারেনি যে ভারত কোন কঠিন ধাতু দিয়ে তৈরি। সপ্তম বহর থেকে শুরু করে পরমাণু পরীক্ষার পর নিষেধাজ্ঞার হুমকি—আমেরিকার সঙ্গে আমরা আমাদের সম্পর্ককে আত্মসম্মান ও মর্যাদার সাথে পরিচালনা করেছি। ট্রাম্পের এই ৫০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আমাদের কূটনীতি ভয়াবহভাবে পিছিয়ে পড়ছে।”
খাড়গে আরও লেখেন, “নরেন্দ্র মোদীজি, ট্রাম্প যখন তিরিশেরও বেশি বার দাবি করেন যে তিনি সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন, তখন আপনি চুপ ছিলেন। ২০২৪ সালের ৩০শে নভেম্বর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে তিনি ব্রিকস দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানে বসে মুচকি মুচকি হাসছিলেন। আর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন ‘ব্রিকস মৃত’। ট্রাম্প এই পারস্পরিক শুল্ক কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করছিলেন। আমরা সবাই এ বিষয়ে জানতাম, কিন্তু আপনি কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা সহ একাধিক খাতে এর প্রভাব কমাতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। আপনার মন্ত্রীরা আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে ব্যর্থ হন। আর এখন ট্রাম্প আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, কিন্তু আপনি চুপ আছেন।”
কংগ্রেস সভাপতি তার পোস্টে এই শুল্কের আর্থিক ক্ষতির দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, “২০২৪ সালে আমেরিকায় ভারতের রপ্তানি ছিল ৭.৫১ লাখ কোটি টাকার। তার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের অর্থ ৩.৭৫ লাখ কোটি টাকার বোঝা। আমাদের শিল্পখাত যেমন – MSME, কৃষি, দুগ্ধ, প্রকৌশল সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও অলংকার, ওষুধ, জৈবিক রাসায়নিক, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং সুতির তৈরি পোশাক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আপনার সরকার এটা কীভাবে মোকাবিলা করবে তা বুঝতে পারছে না। আপনি কংগ্রেসের ৭০ বছরের শাসনের ওপর এই বিদেশ নীতির বিপর্যয়ের দোষ চাপাতে পারবেন না।”
এদিকে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের এই ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বার্তায় বলেছেন, “কৃষকদের স্বার্থই আমাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত কখনও কৃষক, পশুপালক, মৎস্যজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না। আমি জানি এর জন্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বড় মূল্য চোকাতে হবে, কিন্তু তার জন্য আমি প্রস্তুত। কৃষকদের, মৎস্যজীবীদের জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।”