ডোনাল্ড ট্রাম্প বিহারের বাসিন্দা? ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদনে শুরু শোরগোল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্পের নামে আবাসিক শংসাপত্রের জন্য অনলাইন আবেদন জমা পড়ার পর বিহারের সমস্তিপুর জেলার মহিউদ্দিননগর ব্লক অফিসে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই অদ্ভুত ও জাল আবেদনটি প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ একে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই, ২০২৫ তারিখে মহিউদ্দিননগর জোনের পাবলিক সার্ভিস সেন্টারে BRCCO/2025/17989735 নম্বর আবেদনটি জমা পড়ে। আবেদনপত্রে নাম হিসেবে ডোনাল্ড জন ট্রাম্প এবং একটি ছবি সংযুক্ত ছিল, যা স্পষ্টতই জালিয়াতির ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: গ্রাম হাসানপুর, ১৩ নং ওয়ার্ড, পোস্ট বাকরপুর, থানা ও ব্লক মহিউদ্দিননগর।
এই অস্বাভাবিক আবেদনটি নজরে আসতেই ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) ড. নবকঞ্জ কুমার এবং সার্কেল অফিসার ব্রিজেশ কুমার দ্বিবেদী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে দেখা যায় যে, আবেদনপত্রে দেওয়া ছবি, আধার নম্বর, বারকোড এবং ঠিকানা সবই ভুয়ো। এর ভিত্তিতে ৪ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে রাজস্ব কর্মকর্তা সৃষ্টি সাগর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এটি শুধু রসিকতা নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের চলমান সংক্ষিপ্ত নিবিড় সংশোধন কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে মহিউদ্দিননগর ব্লক প্রশাসন সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোন ডিভাইস এবং আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে এই জাল আবেদনটি করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সাইবার ক্রাইম টিমকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে—শুধুমাত্র মজা, নাকি কোনো বড় ষড়যন্ত্র—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন এই ধরনের প্রতারণা বা সরকারি পোর্টালের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন জনসাধারণের প্রতিও সতর্কতা জারি করে বলেছে যে, সরকারি পরিষেবার অপব্যবহার করা হলে তা প্রশাসনিক সম্পদের অপচয় ঘটায় এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ক্ষতি করে। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং তদন্ত আরও জোরদার করা হবে।