“অভয়া কাণ্ডে ব্যর্থতা ঢাকতে মমতা ঝাড়গ্রাম পালিয়েছেন”- বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

সম্প্রতি কোচবিহারে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনা এবং অভয়া কাণ্ড নিয়ে বুধবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালেন বিরোধী দলনেতা। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে অভিযোগ করেছেন যে, অভয়া কাণ্ডের ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি প্রশাসনিক কর্মসূচির অজুহাতে ঝাড়গ্রামে পালিয়েছেন। শুভেন্দু আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে নবান্নের ‘গদি’ বাঁচাতে পুলিশকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, “ডাক্তার বোনের উপর শারীরিক অত্যাচার এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য প্রধান দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তিনি বলেন, অভয়ার মা-বাবা যখন এক বছর পর নবান্নে এসে বিচার চাইছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী ভয়ে ঝাড়গ্রামে পালিয়েছেন। শুভেন্দুর মতে, অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতা অত্যন্ত প্রকট। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘গদি’ বাঁচাতে রাজ্যের পুলিশকে রাস্তায় নামিয়ে নবান্নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি হাওড়ার শিবপুর পুলিশ লাইনে পুলিশ কর্তাদের একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে নবান্নের নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে কোচবিহারে হামলার ঘটনায় বিজেপি তীব্র প্রতিবাদে নেমেছে। বিজেপি কর্মীরা হাওড়া গ্রামীণ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পথ অবরোধ এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বিজেপির উলুবেরিয়া পিসি-এর একটি এক্স (X) পোস্ট থেকে জানা যায়, “কোচবিহারে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের দ্বারা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার প্রতিবাদে উলুবেড়িয়া উত্তর, আমতা, বাগনান ও ফুলেশ্বরে পথ অবরোধ করা হয়েছে।”

শুভেন্দুর এই অভিযোগের জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। তৃণমূল নেতারা এই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” এবং “নাটকের রাজনীতি” বলে অভিহিত করেছেন। তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করছেন না। তিনি ক্রমাগত মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাজ্যের শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক কাজে গেছেন, এটাকে পালানো বলা হাস্যকর।”

এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। অভয়া কাণ্ডের বিচার এবং কোচবিহারের ঘটনার তদন্ত কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে এখন সবার নজর রাজ্য সরকারের দিকে।